Breaking News
recent

ভালবাসার গল্প--- ভালবাসার অন্যতম গল্প শেষ পর্ব

Image result for valobashar golpo
আমিঃ এই মূহুর্তে আমার নিজেরই মাথা কাজ করছেনা ওনাকে কিভাবে control করবো? হায় খোদা তুমি আমাকে কেমন পরিস্থিতে ফেললে.......
-স্যার আপনার sense স্বাভাবিক নেই নিজেকে control করার চেষ্টা করুন। আপনার অনেক নেশা হয়ে গেছে।
আশফিঃ নেশা হয়ে গেছে??? হ্যা,আমার মাহির ভালোবাসা পাওয়ার নেশা হয়ে গেছে, মাহিকে কাছে পাওয়ার নেশা হয়ে গেছে।
আমিঃ আমি ওনার থেকে বারবার দুরে সরার চেষ্টা করছি আর উনি বারবার ই আমাকে কাছে টেনে নিয়াসছে।
-কি যা তা বলছেন আপনি এসব?ছাড়ুন আমাকে আপনি আপনার সীমার বাইরে চলে যাচ্ছেন।
আশফিঃ কি বললে তুমি? সীমার বাইরে? মাহি?তোমার মনে কি আমার জন্য একটুও ফিলিংস নেই? এতুটুকুও ভালোবাসোনা আমাকে?
আমিঃ কথাটা বলেই আমার কোমোর ধরে উনি অনেক জোরে টেনে ওনার কাছে টেনে নিয়ে এনে বললেন,
- কি হলো বলো? (আশফি)
আমি তখন থেকেই আমার দু হাত দিয়ে গায়ের সবটুকু জোর দিয়ে ওনাকে ছাড়ানের চেষ্টা করছি। উনি তাতে খুব রেগে গিয়ে আমার দু হাত ওনার দুহাত দিয়ে সরিয়ে আমার পেছনে ধরে ওনার এক হাতের মুঠোই আমার দুটো হাত শক্ত করে ধরলেন। ওনার অনেক কাছে এগিয়ে নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তার কিছুক্ষণ পর উনি আমার শার্টের বাটম এর দিকে তাকিয়ে ওটা খোলার জন্য হাত বাড়ালেন। আমি ভয় পেয়ে এটাই ভেবে নিলাম আজকেই আমার সবকিছু শেষ? আমি চিৎকার করে ওনাকে বলছি প্লিজ আমাকে ছাড়ুন। কিন্তু চারপাশে music এর আওয়াজে কেউ আমার চিৎকার শুনছেনা। আমি কান্না করে ওনাকে অনেকবার request করে বলছি
-আপনার পায়ে পরি আমার এত বড় ক্ষতি করবেন না। কিন্তু উনি আমার কোনো কথাই কানে নিচ্ছেননা। হঠাৎ উনি আমার শার্টের ২য় আর ৩য় বাটম গুলো খুলে ফেললেন। আমি দেখলাম উনি আমার বুকের ডানপাশের লাল তিলটার দিকে তাকিয়ে আছেন। আস্তে আস্তে সেটার দিকে উনি মুখ বাড়াচ্ছেন ( তিলটাই কিস করার জন্য)
তখন খেয়াল করলাম আমার হাত দুটো উনি হালকা ভাবে ধরে আছে। আমি সেই সুযোগে হাত ছাড়িয়ে অনেক জোরে ওনাকে ধাক্কা দিয়ে বললাম আমি আপনাকে ভালোবাসিনা আর কোনোদিন বাসবোওনা । উনি নিজেকে সামলাতে না পেরে নিচে গিয়ে পরলেন।অনেকটা ব্যথাও পেয়েছেন।আমি সেখান থেকে দৌড়ে চলে আসতে গেলাম। পরে দাড়িয়ে গেলাম পেছন ঘুরে দেখলাম উনি ব্যথায় নিচে শুয়ে কাতরাচ্ছে। আমি বুঝতে পারছিলামনা কি করবো? ওনাকে গিয়ে টেনে তুলবো নাকি চলে যাবো। তখন ওনার প্রতি আমার আলাদা একটা মায়া কাজ করলো আমি ওনার কাছে গিয়ে টেনে তুলতে চাইলাম উনি তখন আমাকে ধাক্কা দিয়ে উঠে পুল সাইডে চলে গেলেন। কিছুক্ষণ পর আমি সেখানে গেলাম।
-আরে আশফি এতক্ষন কোথায় ছিলে? আমরা তোমার গান শোনার অপেক্ষায় আছি। তোমার জন্মদিনে তোমার কন্ঠে গান না শুনলে কেমন হয়।
আমিঃ আশফির হঠাৎ আমারদিকে চোখ পড়লো। (অনেকক্ষণ তাকিয়ে ছিল) তারপর উনি একজন কে ডেকে গিটার নিয়ে আসতে বললো। অদ্ভুত মানুষ উনি এই sense এ উনি গান গাইবে? তারপর উনি গিটার নিয়ে পুলের পাশে চেয়ারে গিয়ে বসলেন।
আশফিঃ গানটা তোমাকেই ডেডিকেড করলাম ( মাহির দিকে তাকিয়ে মনে মনে বললো)
-meri kismat ke har ek panne pe................ meri jeete ji baad marne ke, meri har ek kal har ek lamhe main...... tu likhde mera useeeeee................... har kahani main sari kisso main dil ki duniya ke sacchi rishtome zindegani ke sari hissome tu likhde mera useeeee..... ae khudaaaaaa ae khudaaaaa jab bana uska hi banaaa....
ae khudaaaaa ae khudaaa jab bana uska hi banaaa....
আমিঃ গানটি গাওয়ার সময় ওনার চোখ দিয়ে পানি পরছিল। গান গাওয়া শেষে উনি উঠে চলে গেলো বাসার ভেতর। আমি ও যখন ফিরে আসবো তখন হাতে ফাইলটা দেখে মনে হলো ফাইলটা খুবই important ওনাকে দিয়ে আসা উচিত। এদিকে নিজে যাওয়ার সাহস পাচ্ছিলামনা আবার অন্য কারো হাত দিয়ে পাঠানো ঠিক হবেনা কারন ফাইলটাতে কোম্পানির কিছু secret information আছে। তাই নিজেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। ওনার ড্রয়িংরুমে দরজার কাছে গিয়ে দাড়ালাম দেখলাম উনি দেওয়ালে টাঙ্গানো একটা ছবির সামনে দাড়িয়ে আছে আর চোখ দিয়ে অঝরে পানি পড়ছে। ছবিটা দেখে মনে হলো ওনার বাবা-মা হবে হয়তো। উনি কিভাবে যেনো বুঝতে পারলো আমি দাড়িয়ে আছি। ছবিটার দিকে তাকিয়ে বললো
-অজস্র পরিমান Drinks করলেও আমার sense একেবারে অস্বাভাবিক হয়না
আমি শুনে কিছু না বলে সোফার ওপর ফাইলটা রেখে বেরিয়ে আসলাম বাইরে। তখন Driver এসে বললো ম্যাডাম স্যার আমাকে আপনাকে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেছে। এতকিছুর ভেতরেও উনি এই খেয়ালটা রেখেছে?
আমি বাসায় চলে আসলাম। মা কে কিছু বলতে পারলামনা।
মাঃ কিরে আমি চিন্তা করে মরে যাচ্ছি। এত দেরি করলি কেনো?
আমিঃ অফিসের কাজ ছিল অনেক। তাই দেরি হলো। মা আমি রুমে গেলাম ভালো লাগছেনা।
মাঃ মাহি তুই ঠিক আছিস তো কিছু হয়েছে?
আমিঃ না,মা আমি ঠিক আছি। আমার খুব ক্লান্ত লাগছে। তারপর আমি ঘরে চলে আসলাম। কোনোরকম ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়লাম। মা অনেকবার খেতে ডাকছিলো আমি গেলামনা। মাথায় অনেক চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে আর বারবার কানে ওনার কথা গুলো বাঁজছে। একটা কথাই বেশি ভাবছি আমি উনি এটা কেনো বললো আমার জন্য দেশে আসা?? উনি কি আমাকে আগে থেকে চিনতেন কিন্তু কিভাবে? উনি তো থাকতেন জাপান উনি বড় হয়েছেন ওখানে তাহলে আমাকে কি করে আগে থেকে চিনবে? উনি কি নেশার ঘোরেই বললো। তা কি করে হয় উনি তো নিজেই বললো ড্রিংক করলেও ওনার সেন্স ঠিক থাকে। নাকি এটাও উনি নেশার ঘোরে বললেন। নাহ্ আর ভাবতে পারছিনা। সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।ঘুমোতে চাইলাম কোনো ভাবেই ঘুম আসছেনা।
সকাল হয়ে গেলো আজ রাতে ঘুম টা ভালো হয়নি। উঠে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় বসে ভাবছি হঠাৎ মা এসে বললো
মাঃ তুই এখনো বসে আছিস রেডি না হয়ে? অফিস সময় পার হয়ে যাচ্ছে তো অফিস যাবিনা?
আমিঃ না। যাবোনা।
মাঃ কেনো কি হয়েছে? ছুটি নিয়েছিস শরীর ঠিক আছে তো?
আমিঃ না মা। এমনিই ভালো লাগছেনা। তুমি এতো টেনশন নিওনা আমি একদম ঠিক আছি।
মায়ের সাথে কথা বলতে বলতে হঠাৎ নিচে গাড়ি থামার শব্দ পেলাম। জানালা দিয়ে দেখলাম স্যার এর গাড়ি।
-সর্বনাশ উনি কি এখানে চলে আসলো?
আমি এক দৌড়ে নিচে চলে আসলাম। তারপর দেখলাম ড্রাইভার নামলো।
-ম্যাডাম স্যার আপনাকে নিয়ে যেতে বলেছেন।
-তোমার স্যারকে বলো আমি যাবোনা।
ড্রাইভার স্যারকে ফোন দিয়ে বললো।
মাঃ কিরে কে এসেছে আর তোর ফোন বাঁজছে। ধর।
আমিঃ স্যার ফোন করেছে। আমি রিসিভ করলাম।
-১০ মিনিটের ভেতর অফিসে দেখতে চাই। খুবই urgent. আর যদি না আসো তাহলে আমি চলে আসবো। আর আমি আসলে কি হতে পারে সেটা এখন একটু হলেও idea করতে পেরেছো?
-ফোন টা কেটে দিল। যেভাবে threat করলো তাকে উনি অস্বাভাবিক কিছু করতেই পারে।
মাঃ কিরে কি সমস্যা? অফিসের বস তোর জন্য গাড়ি পাঠিয়েছে আবার ফোন করে কি বলছে তোকে?
আমিঃ মা আমি ফিরে এসে সবকিছু বলবো। এখন আমাকে যেতে হবে। আমি রেডি হয়ে অফিসে চলে গেলাম।আজকে আর morning জানানোর জন্য ওনার চেম্বারে যাইনি। উনিও আমাকে আজ আর ডেকে পাঠাননি। আর আজকে একবারের জন্য আমার দিকে তাকাননি। আমিই বারবার ওনাকে লক্ষ্য করছি। কেনো যেনো ওনার এই ব্যবহারটা আমি নিতে পারছিনা। তারপর দেখলাম নীলাকে ওনার চেম্বারে যেতে। আমি ওদেরকে লক্ষ্য করছি। স্যার ওর সাথে অনেক ফ্রি ভাবে কথা বলছে। অনেক হাসাহাসি করছে দুজনে। আমার চেম্বারের দিকে উনি একবারও দেখছেনা যে আমি ওনাদের দিকে তাকিয়ে আছি। আমার একদমই এই দৃশগুলো সহ্য হচ্ছেনা। এখন যেটা করলো সেটা দেখার জন্য আমি একেবারে প্রস্তুত ছিলামনা। স্যার ওকে একটা ছোটো giftbox দিলো। দেওয়ার সময় উনি আড়চোখে বারবার আমারদিকে তাকাচ্ছিলো। giftbox থেকে ঘড়ি বের করলো। সেটা উনি নিজে ওর হাতে পরিয়ে দিলো। আমি চোখ সরিয়ে নিলাম। এটা একটু বেশি বেশি হয়ে গেলো মনে হচ্ছে।নীলা বেরিয়ে এলো।
ও আমার কাছেই আসছে। অনেক খুশি খুশি লাগছে ওকে।
নীলাঃ মাহি,(exited হয়ে). I'm so happy. এই দেখো স্যার আমাকে এই ঘড়িটা gift করেছে আর সেটা নিজেই পরিয়ে দিয়েছে। ঘড়িটা অনেক দামি brand এর তাইনা?
আমিঃ হুম। সুন্দর। তো এটা তোমাকে স্যার কি উপলক্ষে gift করলো?
নীলাঃ আমাদের কোম্পানি অনেক বড় একটা অর্ডার পেয়েছে আমাদের কাজের দক্ষতার জন্য। তাই স্যার খুশি হয়ে এটা দিয়েছে।
আমিঃ তাহলে তো সবাইকেই দেওয়া উচিত তোমার একা কে দিল কেনো?
নীলাঃ তা তো জানিনা। may be স্যার আমার ওপর ইমপ্রেসড হয়েছে?
আমিঃ খুশিতে নাচতে নাচতে চলে গেলো।হুহ
একদিনেই ইমপ্রেসড হয়ে গেছে। ঢং। যা খুশি করুক আমার কি। কিন্তু আমি আর এখানে কাজ করবোনা। আজকে ছেড়ে দিবো। রেজিগলেশন লেটার নিয়ে ওনার কাছে গেলাম।
- আসতে পারি?
-হুম। (আশফি)
- আমি আর চাকরিটা করতে চাচ্ছিনা। দয়া করে আমার রেজিগলেশন লেটার টা গ্রহণ করুন।( উনি আমার দিকে একদম তাকাচ্ছেনা।
-হুম গ্রহণ করবো। কিন্তু এখন নয় সন্ধ্যার পর।
-কেনো? সন্ধ্যার পর কেনো?
-আজকে সন্ধ্যাই আমার বাসায় একটা পার্টির arrangement করেছি। সেদিনকার ঐ জাপানিজ ক্লাইন্টদের সাথে আমাদের অনেক বড় একটা ডিল ফাইনাল হবে যেটার জন্য আমাদের কোম্পানি দেশে 1st position এ থাকবে। আর সেখানে তোমাকে প্রয়োজন হবে। তাই সন্ধ্যার পরেই তোমার লেটারটা গ্রহণ করে তোমাকে এই এখান থেকে মুক্ত করে দিবো।
আমিঃ ওনার মুখে কথাটা এভাবে শুনে বুকের ভেতরটা মোচর দিয়ে উঠলো। কিন্তু আমার তো খুশি হওয়ার কথা। উনিই বা কেনো আমাকে এভাবে কথাটা বললো? তারমানে উনি কি সত্যিই...................না এসব ভালোবাসা বলে কিছু নেই এগুলো আমি বিশ্বাস করিনা।
আশফিঃ কি হলো চুপ করে আছো কেনো?
আমিঃ হ্যা??? না কিছুনা এমনি। ঠিক আছে।(চিন্তার জগত থেকে ফিরে)
আশফিঃ আজকে lunch এ ছুটি দিয়ে দিবো সবাইকে। সন্ধ্যায় চলে এসো।
আমিঃ হুম। আসছি।
আশফিঃ হুম। আজকে তোমাকে সত্যিই মুক্ত করে দিব। আর এখানে আসতে হবেনা। (মাহি চলে যাওয়ার পর বললো)

মাহিঃ আমার এমন ফিলিং হচ্ছে কেনো মনে হচ্ছে কিছু একটা হারিয়ে ফেলছি।যেমনই লাগুক আমাকে আমার সিদ্ধান্তে অটল থাকতে হবে দুর্বল হলে চলবেনা। আমি আর আজকে কোনো কাজ করতে পারলামনা। কোনোভাবে সময়টা পার করে দুপুরে বাসায় চলে আসলাম।বাসায় এসে সোজা ঘরে চলে আসলাম।
মাঃ মাহি তুই এমন সময় বাসায়? কোনো সমস্যা হয়েছে অফিসে? সকালেই বা কি হয়েছিল?
আমিঃ তেমন কিছুনা urgent কাজ ছিল তাই ডেকে পাঠিয়েছিল।
মাঃ তুই কিছু লুকাচ্ছিস না তো? তুই তো আমার কাছে কিছু লুকাসনা।খুলে বল আমাকে কি সমস্যা।আজ দুইদিন দেখছি তুই গভীর চিন্তায় ডুবে থাকিস।
আমিঃ সত্যি বলছি কিছু হয়নি মা। আর শোনো আজ সন্ধ্যায় স্যারের বাসায় যেতে হবে। জাপান থেকে কিছু ক্লাইন্ট আসবে অনেক বড় একটা ডিল ফাইনাল করার জন্য সেই উপলক্ষেই একটা পার্টি থ্রো করেছে উনি। সেখানে আমাকে থাকতে হবে। আর তাই বলছি ফিরতে একটু লেট হবে তুমি টেনশন করবেনা।
মাঃ জাপান?? এই জাপানেই আমার জীবনের সব থেকে সুখের স্মৃতি আর সবথেকে ভীতিকর স্মৃতি রয়েছে। (দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে)
আমিঃ কি বললে তুমি?
মাঃ না কিছুনা। তুই যা গোসল করে খেতে আয়।
আমিঃ দাড়াও মা তুমি কিছু একটা লুকাচ্ছো আমাকে সত্যি করে বলো মা কি বললে তুমি? কি হল বলো?
মাঃ হুম বলছি। আমার আর তোর বাবার বিয়ের পর তোর বাবা আমাকে দেশে রেখে জাপান চলে যায় বিজনেস এর ভিসায়। কিন্তু আমি একা থাকবো বলে একটা বেবি দিয়ে যেতে চেয়েছিল। তোর বাবা ভেবেছিল ওখানে যাওয়ার পর সুখবরটা শুনবে। কিন্তু তিনি নিরাশ হয়েছিল কারণ কনসিভ করতে পারিনি আমি। এদিকে ওখানে যাওয়ার পর অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেছিলো ওর। কোনো কিছু করতে পারছিলনা কোনো কাজও খুজে পাচ্ছিলনা। তখন একজন প্রবাসীর সাথে দেখা হয় ওর।তাকে সবকিছু খলে বলে। একটা সময় তার সাথে খুব ভালো সম্পর্ক হয়ে যায় তোর বাবার।উনি একটা ছোটোখাটো কাজের ব্যবস্থা করে ওকে। ওনার নাম ছিল আশরাফ চৌধুরী। আশরাফ ভাইয়ের কথা আমি আজও ভুলতে পারবোনা। সারাজীবন ঋণী হয়ে থাকবো ওনার কাছে। তারপর তোর বাবার আস্তে আস্তে কিছু পুঁজি বৃদ্ধি পায়। তখন আশরাফ ভাই ওকে প্রস্তাব দেয় দুজনে একসাথে একটা বিজনেস শুরু করবে। তোর বাবাও রাজি হয়ে যায়। একটা সময় বিজনেসটা অনেক বড় হয়। সেখানে অনেক বাঙ্গালি কাজের সুযোগ পায়। কিছু চাইনিজ ও সেখানে জয়েন করে। এরভেতর তোর বাবা দেশে আসলো আমার জন্য। অনেক চেষ্টা করলাম আমরা কিন্তু কোনো ভাবেই বেবি নিতে পারলামনা। ডাক্তারের কাছে গেলাম ডাক্তার বললো তোর বাবাকে আমার যে সমস্যা সেটা ঠিক হবে শুধুমাত্র ওর সাথে একটানা ৬ মাস/ ১ বছর একসাথে থাকতে পারলে। তাই ও ঠিক করলো আমাকে ওখানে নিয়ে যাবে। আমি ওখানে যাওয়ার পর আশরাফ ভাইয়ের ফ্যামিলি ও আমাদের কাছে চলে আসলো। আমরা সবাই একসাথে থাকা শুরু করলাম।তার ঠিক সাড়ে সাত মাস পর তুই আমার গর্ভে এলি।অনেক খুশি হয়েছিলাম আমরা। তুই হওয়ার পর তোর বাবার বিজনেসে অনেক সাফল্য আসতে শুরু করলো। আমার নামের ১ম অক্ষর দিয়ে তোর বাবা তোর নাম রাখলো মাহি। অনেক ভালোই যাচ্ছিল সময় গুলো।আশরাফ ভাইয়ের একটা ছেলে ছিল। ভারী মিষ্টি ছিল ও সবসময় তোর কাছে থাকতো। তোদের দুজনকে আমিই দেখাশুনা করতাম। আশরাফ ভাইয়ের বৌ ও বাইরে চাকরি করতো। তাই আমাকেই দেখতে হতো ওকে। ও খুব বাদ্ধ ছিল আমার। মামনি বলে ডাকতো আমাকে।ওর যখন ১১ বছর বয়স তখন তোর আর ওর বাবা ঠিক করলো তুই বড় হলে তোকেই ওনার ছেলের বৌ করবে। আস্তে আস্তে সুখের সময় গুলো পার হয়ে যাচ্ছিল। তোর বাবার ভেতরেও অনেক পরিবর্তন আসতে শুরু করলো। অনেক রাত করে বাড়ি আসা, আমার সাথে সবসময় ঝগড়া করা এমনকি কিছু কিছু রাত বাড়িতেও আসতোনা।এদিকে ওদের বিজনেসেও অনেক প্রবলেম শুরু হলো...............
আমিঃমা প্লিজ আর ভালো লাগছেনা শুনতে। ঐ লোকটার কোনো কথাই আমার শুনতে ইচ্ছা হয়না। এবার চুপ করো। আমি আর শুনবোনা।
মাঃ আমি কি বলতে চেয়েছি তুই তো শুনতে চাইলি।
আমিঃ হ্যা। এখন আমার শোনার সাধ মিটে গেছে।আমি গোসলে গেলাম।
মাঃ কিন্তু একটা বিষয় আজও আমার কাছে অজানা। সেদিন আশরাফ ভাই কিভাবে জানতে পারলো যে আমরা বিপদে পরেছি? আর কি বলতে চেয়েছিল আমাকে? ঐ দিন রাতে আশরাফ ভাইকে উপরওয়ালা না পাঠালে আমি মাহিকে নিয়ে আর বেঁচে ফিরতে পারতামনা দেশে।( একাই কথা গুলো ভাবছিল।)
(ইসস মাহি যদি একবার পুরো কথাগুলো শুনতো তাহলে আজকে ওর কাছে অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যেতো।আর বিরক্তিকর নিয়ে কথাগুলো না শুনলে এটাও ওর খেয়ালে আসতো যে আশফিও জাপান থাকতো)
মাহিঃ মা খেতে দাও খিদে পেয়েছে।
মাঃ আমি খাবার বেরেছি তুই আয়।
মাহিঃ আমি খাওয়া শেষ করে বসে একটু টিভি দেখছিলাম মুডটা ভালো করার জন্য। দেখতে দেখতে কখন যেনো সোফায় ঘুমিয়ে পরেছি। সন্ধ্যা হয়ে হয়ে গেছে মা ডাকাডাকি করছে
মাঃ তোর নাকি পার্টিতে যাওয়ার আছে তো রেডি হবি কখন আর যাবি কখন। ক'টা বাজে দেখেছিস?
মাহিঃ মা তুমি আমাকে আরও আগে ডাকবেনা? অলরেডি সন্ধ্যা হয়ে গেছে।
মাঃ আমি তো তোকে কখন থেকেই ডাকছি। যা তাড়াতাড়ি যা।
মাহিঃ আমি গিয়ে তাড়াহুরো করে ফ্রেশ হয়ে একটা ড্রেস পরলাম। সাজার সময়ও নেই আর মুডও নেই তাই না সাজার মত করে সেজেই বেরিয়ে পরলাম। গিয়ে দেখলাম আজকে তো কালকের থেকেও আরো বেশি জাঁকজমক করে সাজিয়েছে। মনে হচ্ছে বিয়ে বাড়ি। ভেতরে ঢুকে দেখলাম অফিসের সবাই চলে এসেছে শুধু আমিই লেট। ওনাকে কোথাও দেখছিনা। উনি কোথায়?
বলতে বলতেই হঠাৎ আমার পাশে এসে দাড়ালেন। আমার পা থেকে মাথা ওবদি দেখছে। এভাবে কি দেখছে বুঝতে পারলামনা। আমি নিজেকে একবার ভালো করে দেখলাম কোনো সমস্যা আছে নাকি। কৈ কোনো সমস্যা নেই তো তাহলে উনি এভাবে রেগে তাকিয়ে আছে কেনো?
আশফিঃ এটা কিভাবে এসেছো তুমি? কোনো চয়েস নেই তোমার? এতটা unsmart কেনো তুমি? কোথায় কিভাবে আসতে হয় জানোনা?
মাহিঃ মানে কি? আমি খ্যাত?
কি সমস্যা আছে এখানে?
আশফিঃ কি?? খ্যাত মিন?
মাহিঃ উফফ উনি তো আবার ভদ্র মানুষ এগুলো বোঝেনা। খ্যাত মিন....!! খ্যাত মানে হচ্ছে.... কি বলি?? খ্যাত মানে হচ্ছে আনস্মার্ট।
আশফিঃ ওহহ...তাই বলো। কি মুখের ভাষা?? যাইহোক এখানে দাড়াও আমি আসছি।
মাহিঃ হুহ নিজে যেনো প্রাইম মিনিস্টার!!
কিছুক্ষণ পর দুজন মহিলা আসলো।
-ম্যাম আমাদের সাথে ভেতরে আসুন
-ভেতরে যাবো মানে? কোথায় কেনো যাবো?
-স্যার আপনাকে ভেতরে নিয়ে গিয়ে রেডি করে দিতে বলেছে।
-রেডি মানে? আমি তো রেডিই। এই আমি কোথাও যাবোনা যাও তোমরা।
আশফিঃ এটাকে রেডি বলে? সবাইকে দেখো আর নিজেকে দেখো তাকিয়ে। একটা পার্টিতে আসার জন্য কতটুকু সাজগোজ প্রয়োজন সেটাও তোমার জানা নেই?
মাহিঃ ওনার জন্যই তো আমার সাজগোজের মুড নষ্ট হয়ে গেছে। অসহ্য।
এই শুনুন আমি যাবোনা যাবোনা যাবোনা। আমি এভাবেই অনেক কমফর্ট ফিল করছি।
আশফিঃ বাড়িতে বাইরে থেকে অনেক গেস্ট আসবে। আর তাদের সামনে তুমি আমার পি.এ হয়ে যদি এরকম তোমার ভাষায় খ্যাত হয়ে যাও তাহলে আমি সেটা মেনে নিবোনা। তাই ভালোভাবে বলছি ওদের সাথে যাও।( হাত ধরে টেনে দূরে নিয়ে গিয়ে বললো)
মাহিঃ ওনার কথাগুলো শুনে আমি অনেক ইনসাল্ট ফিল করছিলাম। আমি মোটেও খ্যাত না। তাই এক প্রকার বাধ্য হয়ে ওদের সাথে গেলাম।ওরা আমাকে একটা রুমে নিয়ে আসলো। রুমটা বেশ বড়। ওরা একটা গর্জিয়াস শাড়ি পরাতে আসলো আমাকে।
-এই এটা কি শাড়ি কেনো? আমি এসব শাড়ি টারি পরতে পারবোনা।
-ম্যাম স্যার এটা আপনাকে পরতে বলেছে। প্লিজ পরুন না হলে আমাদের এসে খুব বকবে।
আমিঃ এগুলো উনি একটু বেশি বেশি করছেনা????
বেশ কিছুক্ষন পর আয়নাই নিজেকে দেখলাম
-ইইই তোমরা এটা কি সাজিয়েছো? সাজ তো দেখে মনে হচ্ছে আজকে আমার বিয়ে।
আশফিঃ আমি ওদের এভাবে সাজিয়ে দিতে বলেছি। এ কি নেকলেস টা কোথায়? কি হলো তোমাদের কাছে একটা নেকলেস দিয়েছিলাম ওকে পরানোর জন্য সেটা কোথায়?(চিৎকার করে রেগে বললো)
-স্যার এইযে এখানেই আছে।আসলে বিছানার ওপর ছিল তো খেয়াল করিনি
shut up যাও এখান থেকে তোমাদের আর কিছু করতে হবেনা।
মাহিঃ উনি একটা নেকলেস বের কররো বক্স থেকে। একি
এটা তো ডায়মন্ড নেকলেস।এটা কেনো উনি আমাকে পরাবে?
উনি ওটা নিয়ে
আমার কাছে আসছে। আমাকে যখন পরাতে আসলো আমি পিছু সরে আসলাম।
-এটা আমি পরতে পারবোনা। কেরো পরাচ্ছেন এটা আমাকে?
আশফিঃ আচ্ছা তোমার কি সব বিষয় নিয়ে ঝামেলা না করলেই হয়না? পরতে বলেছি পরবা ব্যাস আর কোনো কথা শুনতে চাইনা আমি। এটা বলেই ওর হাত ধরে টেনে এনে পরিয়ে দিলাম। এটা পরে ওকে এখন পরিপূর্ণ লাগছে।
-যাও এখন বাইরে যাও।
মাহিঃ এটা কি খুব দরকার ছিল? আজব মানুষ একটা। আমি বাইরে আসলাম। সবাই অনেক ডান্স করছে। আমি ওদের নাচ দেখছি দাড়িয়ে।মুড ঠিক থাকলে এতক্ষণ আমিও গিয়ে নাচা শুরু করে দিতাম।উনি আমার পাশে এসে দাড়ালো।
আশফিঃ কি নাচতে ইচ্ছে করছে?
মাহিঃ না। আমি চলে আসলাম ওনার কাছ থেকে। উনি সামনে চলে গেলো।
- আরে মাহি তোমাকে তো অসাধারণ লাগছে। মনে হচ্ছে আজকেই বিয়ে করে ফেলি।(আসিফ)
মাহিঃ চুপ করো তো কি বলছো এসব?
-সত্যিই বলছি। আচ্ছা কমপক্ষে একটা সেলফি তো নিতে দাও।
মাহিঃ আমি হঠাৎ সামনে খেয়াল করলাম উনি আমার দিকে রেগে তাকিয়ে আছে আর আসিফের দিকে যেভাব দেখছে তাতে মনে হচ্ছে বেচারাকে আজকেই গোরোস্থানে পাঠাবে। আমি ভয়ে আসিফকে বললাম,না থাক কোনো প্রয়োজন নেই ওদিকে চলো সবার সাথে গিয়ে কথা বলি। আমি সবার সাথে কথা বলছি হাসাহাসি করছি। আসিফ আমার পাশেই দাড়িয়ে ছিল। ওনারদিকে চোখ পরলো। উনি এদিকেই আসছে।ভয়ে আমার কলিজার পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। এসে সবার সাথে একটু কুশলাদি বিনিময় করলো।
আশফিঃ মাহি আমার সাথে এসো।
-আমি গেলাম।
- অনেক হাসাহাসি করেছেন এবার চলেন আমার সাথে ওরা চলে এসেছে।
-তারপর আমরা ওদের সাথে কথা বললাম।তারপর ডিলটাও কমপ্লিট করলাম।
আমি ওদের সাথে কথা বলছি উনি চলে গেলেন।
আশফিঃ attention guys. আমার এই পার্টিতে আসার জন্য সবাইকে ম্যানি ম্যানি থ্যাংকস। আজকের এই পার্টিটা দুটে অনারে দেওয়া। একটা তো আপনারা আগে থেকেই জানেন আর একটা কারন আছে সেটা হল আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে আমার life partner এর পরিচয় করিয়ে দেবো। ইনফ্যাক্ট তার সাথে আজকে আমার engagement.
মাহিঃ ও। লাইফ পার্টনার ও খোঁজা হয়ে গেছে? আর আমার সাথে কি নাটকটাই না করলো। উনি আমার দিকে তাকিয়ে আছেন কেনো?
আশফিঃ নিশ্চই চমকে গেছো। আরো চমকাবে। ধৈর্য্য ধরো।
মাহিঃ ছেলে মানুষ জাত টাই খারাপ। কি ব্যাপার উনি আমার দিকে এগিয়ে আসছে কেনো?
আশফিঃ আজ থেকে সবাই জানবে মাহি শুধু আশফির।আমি ওর কাছে এসে হাত ধরে সবার সামনে নিয়ে এলাম। ও আমার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। ওকে নিয়ে সবার সামনে দাড়ালাম।
মাহিঃ আমি স্বপ্নেও ভাবিনি উনি আমার সাথে এটা করবে। এর জন্যই উনি আমাকে বলেছিল আমাকে আর অফিসে আসতে হবেনা।উনি ওনার সবটুকু লিমিট ক্রস করেছে আমাকে না জানিয়ে এতকিছু করে ফেলেছে। এর ফল কি মারাত্বক হবে সেটা ওনাকে আমি এখন বোঝাবো।
আশফিঃ মাহি হাতটা দাও। কি হলো হাতটা দাও।
.................................
মাহি সবাই তাকিয়ে আছে হাত টা দাও বলছি।
মাহিঃ উনি নিজেই আমার হাতটা নিয়ে পরিয়ে দিতে চাইলো আমি হাতটা সরিয়ে নিলাম।
- যথেষ্ট হয়েছে।(চিৎকার করে) আপনি একদম আপনার সীমার বাইরে চলে এসেছেন।কি মনে ভেবেছেন কি আপনি আপনার সবকিছু আমি মুখ বুজে সহ্য করবো? আপনি কিভাবে ভাবলেন আপনাকে আমি বিয়ে করবো? সবসময় সবকিছু মেনে নিয়েছি বলে এটা ধরে নিলেন যে আমি আপনার ওপর weak হয়ে পরেছি? কি দারুণ আপনার ভাবনা।
আশফিঃ মাহি তুমি কিন্তু আমাকে সবার সামনে অপমান করছো।সবাই দেখছে।
মাহিঃ থামুন আপনি। আপনার কোনে অপমানবোধ আছে? থাকলে আজকে এটা করার সাহস পেতেননা। এটা করার আগে অন্তত ২ বার ভাবতেন।আপনাদের এই ২ দিনের প্রেম ভালোবাসা নেওয়ার জন্যই আমাদের জন্ম তাইনা? যেদিন ফুল থেকে মধু নেওয়া হয়ে যাবে সেদিন আবার ছুড়ে ফেলে দিবেন তারপর আবার হয়তো নতুন ফুল গ্রহণ করবেন। এটাই তো আপনাদের রীতি। একটা কথা ভলো করে জেনে নিন আমি আপনাদের ছেলেদের এই মিথ্যে বিয়ে,প্রেম ভালোবাসার নাটকে কখনোই ভুলবনা।কথা গুলো বলে ওনার বাসা থেকে বেরিয়ে আসলাম।
- কি বলে গেলো এই মেয়েটা? আশফির মতো ছেলে কে পাওয়ার জন্য সব মেয়েরা পাগল। আর এ কি সব বলে গেলো? আশফিও চুপ করে দাড়িয়ে শুনলো। ও তো চুপচাপ অপমান সহ্য করা ছেলেনা।(আশফির বন্ধুরা)
( আশফি ঘরে গিয়ে দরজা আটকিয়ে দিল। বাইরে থেকে শুধু ভাঙচুরের শব্দই আসছিল)
মাহিঃ অনেক আগেই ওনার জায়গা টা বোঝানো উচিত ছিল আমার। বাসায় চলে আসলাম। মা আমাকে এই পোশাকে দেখে অনেক প্রশ্ন শুরু করলো। আমি আর মায়ের থেকে কোনোকিছু গোপন রাখতে চাইনা।তাই মাকে আজকের ঘটনা সব খুলে বললাম।
মাঃ হুম। ছেলেটা তোকে কিছু না বলে কাজটা করে ঠিক করেনি। তবে তুইও সবার সামনে এভাবে অপমান করে ঠিক করিসনি।কিন্তু আজ না হয় কাল তোকে তো বিয়ে করতে হবে। সারাজীবন তো আর এভাবে থাকা সম্ভব নয় তাইনা??
মাহিঃ না মা। কোনোদিনও সেটা সম্ভব না। সম্পর্ক, বিয়ে, ভালোবাসা এগুলো আমি কোনোদিও বিশ্বাস করিনা।
মাঃ তা বললে কি হয়? পৃথিবী টা তো এগুলোর ওপরেই টিকে আছে।
মাহিঃ তাই যদি হয় তাহলে তোমার সাথে এমন হলো কেনো? কেনো তুমি সারাজীবন একা থেকে গেলে। ঐ লোকটাও তো তোমাকে ভালোবেসেছিল তাহলে সে কেনো তার স্ত্রী কন্যাকে ছেরে অন্য এক মহিলার সাথে.............
মাঃ মাহি(ধমক দিয়ে)চুপ কর।
মাহিঃ মাফ করে দিয়ো মা। কথা গুলো এভাবে বলতে চাইনি। ছোটোবেলা থেকে তোমাকে এভাবে দেখে সবার মুখে ঐ লোকটার কথা শুনে আমার সব পুরুষ জাতির ওপর ঘৃণা থরে গেছে। সেই ছোটো থেকে এখন পর্যন্ত দেখছি এমন কোনো রাত যাইনি তুমি কাদোনি। সমাজের মানুষ তোমাকে নানান রকম কথা বলেছে। এরপর আমার আর এদের ওপর কোনো বিশ্বাস নেই। আমি ঘরে চলে আসলাম। অনেক্ষন পর ঘর থেকে বেরিয়ে মায়ের ঘরে গেলাম। আজকে রাতে মায়ের কাছেই ঘুমোবো। মায়ের কোলে মাথা রাখলাম। আজকে অনেক কান্না করকে ইচ্ছে করছে।
মাঃ মাহি আমি জানি তোর কতটা খারাপ লাগছে। নিজেকে শান্ত কর। আয় তোকে ঘুম পারিয়ে দেই।
(পরেরদিন দুপুরে)
মাঃ মাহি আমার ওষুধ গুলো ফুরিয়ে গেছে সামনে মোড়ের দোকান থেকে একটু এনে দে মা।
মাহিঃ ওষুধ ফুরিয়ে গেছে সেটা আগে বলবে তো। যাচ্ছি। আজকে friday ভেবেছিলাম মাকে নিয়ে ঘুরতে বের হবো। তা আর হলোনা। দোকানে ওষুধ আনতে গেলাম। রাস্তার পাশে একটা সাদা গাড়ি দাড়িয়ে আছে । গাড়িটা থেকে অনেক জোড়ে গানের আওয়াজ আসছে।পিকনিকে যাচ্ছে হয়তো।ওষুধ কিনে যখন ফিরছিলাম তখন গাড়ির ভেতর ২/১ টা ছেলে আমাকে দেখে কি যেনো বলাবলি করছিল। আমি গাড়ি টাকে ক্রস করে তাড়াতাড়ি হাটা শুরু করলাম। হঠাৎ ৩ টা ছেলে গাড়ি থেকে নেমে রাস্তার মাঝেই সবার সামনে আমাকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে গেলো। একটা বাসার সামনে থেমে ছোটো একটা ঘরে নিয়ে গেলো। আমার মুখটা বেঁধে দিয়েছিল।অনেক ছাটাছাটি করছি আর মনে মনে আল্লাহ্ কে ডাকছি এত বড় সর্বনাশ যাতে না হয় আমার। রুমে নিয়ে আমাকে তালা মেরে আটকে রাখলো। পালানোর চেষ্টা করলাম পারলামনা। রাত হয়ে গেলো আমি ফ্লোরে বসে কাঁদছি। ঘরটাও খুব অন্ধকার হয়ে আছে। হঠাৎ দরজাটা কেউ খুললো ভয়ে আমার হাত পা অবস হয়ে আসছিলো। আমি উঠে দাড়ালাম। অন্ধকারে মুখটাও দেখতে পাচ্ছিলামনা।আমি দৌঁড়ে পালাতে গেলাম।আমাকে ধরে গা থেকে ওরনা টা ফেলে দিল। তারপর দেওয়ালের সাথে মিশিয়ে দু হাত চেপে ধরে আমার ঠোঁটে তার ঠোঁটের স্পর্শ পেলাম।অনেকক্ষণ ধরে এভাবে চুমো দিয়েই যাচ্ছিল। আমার চোখ দিয়ে শুধু পানিই পরছিল কিছু বলতে পারছিলামনা। সে আমার মুখে ঘারে গলাই এভাবেই চুমো দিয়ে যাচ্ছিল। তারপর সে নিজেই আমাকে ছেড়ে দিয়ে সামনে দাড়ালো। সে হাপাচ্ছিল আমি তার নিঃশ্বাসের শব্দ পাচ্ছিলাম। আমি আবারও পালানোর চেষ্টা করলাম। সে আমার হাত ধরে টেনে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলে দিল। তারপর সে দরজা বন্ধ করে বেরিয়ে গেলো। আমি চিৎকার করে কান্না শুরু করলাম। অনেক রাত হয়ে আসছিল তার ওপর ঘর অন্কার। একা একা বসে আছি। খুব ভয় লাহছিল। হঠাৎ রুমের বাইরে থেকে কেউ বললো
-ভয় পাবেননা আমি পাশেই আছি।কথাটা শুনে অবাক হবো নাকি ভয় পাবো বুঝতে পারছিনা। কন্ঠ শুনে মনে হলো মুখে কিছু চেপে ধরে কথা বললো।আমি কাঁদতে কাঁদতে কখন যেনো ঘুমিয়ে পড়লাম। মুখে আলো পরে ঘুম ভেঙ্গে গেলো। দেখলাম দরজা খোলা সকালের রোদ চোখে এসে পরেছে। আমি কিছু না ভেবেই দৌঁড়ে বেরিয়ে আসলাম। আশেপাশে ও কেউ ছিলনা।বাসায় এসে পৌঁছালাম দেখলাম মা সোফায় বসে কাদছে। আমাকে দেখে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে আদর করা শুরু করলো। আমিও কাদছিলাম। মা কে সব বললাম। মা কেদেই যাচ্ছে। এলাকার সবাই জেনে গেছে এই ঘটনা। নানান রকম কথা বলছে আমাকে দেখতে আসছে। সবার কথা একটাই আমাকে ধরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে।আমি শুধু ঘরের দরজা আটকিয়ে কান্না করছি।মা আমাকে শান্ত করার চেষ্টা করছে। আর আমি ভাবছি এরকমটা কেনো করলো আমার সাথে আর সে কে ছিল? জীবনটা এলোমেলো হয়ে গেলো। নিজেকে বহু কষ্টে শান্ত করলাম ভাবলাম কারো কথায় আর গায়ে মাখবোনা।কারন আমি তো জানি আমার সাথে কি হয়েছে। পরেরদিন সকার ৯ টায় ম্যানেজার ফোন করলো।
-মাহি তুমি যে কাজ গুলো পেনডিং রেখেছো সেগুলো স্যারকে ইনর্ফম করতে বলেছে। আর রেজিগলেশন টা নিয়ে আসতে বলেছে।
মাহিঃ ঠিক আছে আসছি। ওনার দেওয়া শাড়ি গয়না গুলোও ফেরত দিব। তাই মাকে বলে অফিসে গেলাম। এখানে এসেও সমালোচনার পাত্রি হলাম। এখানেও কারোর বাকি নেই জানতে। খুব কান্না পাচ্ছে নিজেকে সামলাতে পারছিনা। উনি ওনার চেম্বার থেকে বেরিয়ে এলো।
আশফিঃ কি হয়েছে এখানে এত শব্দ কেনো? যে যার কাজে যান।(ধমকিয়ে)
মাহিঃ আমার দিকে একবার তাকালো। তারপর চলে গেল। আমি ওনার চেম্বারে গেলাম।
-এই কাজগুলো বাকি আছে দেখিয়ে বললাম। উনি শুধু হুম হুম বলছে। তারপর রেজিগলেশন দিলাম। উনি সেটাতে সাইন করে একসেপ্ট করলো। সবশেষে শাড়ি গয়না গুলো ফেরত দিলাম।তখন আমার দিকে রেগে তাকালো। ওনার রাগে এখন আমার ভয় লাগছেনা।
আশফিঃ কাউকে কিছু দিলে আমি সেটা আমি কখনো ফেরত নিইনা। না নিলে কোথাও ফেলে দাও।
মাহি চলে গেলো।
-এবার নিশ্চই বুঝতে পেরেছো মাহি? অপমান জিনিসটা কেমন লাগে। আমি তোমাকে যতই ভালোবাসি মাহি কিন্তু তোমার অপমান আমি হজম করতে পারিনি। সবার সামনে তুমি আমাকে refeused করেছো অপমান করেছো। আমি সেটা মেনে নিতে পারিনি।সেদিন রাতেই আমি প্রমিস করেছিলাম এর কি শাস্তি আমি তোমাকে দিব। অপমানটা আমি করছি এর সমাধান ও আমিই করবো।বেশিদিন এই অপমান তোমাকে সহ্য করতে হবেনা।অবশ্য এর পেছনের মূল উদ্দেশ্য ছিল তুমি যাতে আমাকেই বিয়ে করতে বাদ্ধ্য হও। I'm sorry dear.(মাহির দিকে তাকিয়ে)
মাহিঃ আমি চলে আসলাম আমার চেম্বারে। জিনিস গুলো ওখানেই ফেলে বাসায় চলে আসলাম। মা এখন সারাদিন গম্ভীর হয়ে থাকে। এত দ্রুত আমার জীবনটা শেষ হয়ে যাবে ভাবিনি। সন্ধ্যায় কে একজন বাসায় আসলো। মায়ের সাথে কথা বলছে
মাঃ জি বসুন। আপনাকে তো চিনতে পারলামনা।
-আমি আরমান চৌধুরী। আশফি চৌধুরীর চাচা।
মাঃ ওহ আচ্ছা।
-আমি আশফির কাছে মাহির ব্যাপারে সবটাই শুনেছি। আর আপনিও নিশ্চই জানেন আমার ভাতিজা ওকে পছন্দ করে। আর এত কিছুর পরও আশফি ওকে বিয়ে করতে চাই। আশফির ব্যাপারে আমি আপনাকে সবকিছু বলছি।
মাঃ হুম। বুঝতে পারছি ও অনেক ভালো ছেলে। আমার কোনো আপত্তি নেই এই বিয়েতে।
মাহিঃ আমি তাদের কথাগুলো শুনে আর ঘরে থাকতে পারলামনা।বেরিয়ে এলাম।
-মা তুমি কিভাবে এই বিয়েতে রাজি হলে। তুমি তো সবকিছুই জানো আমি কেনো বিয়েটা করতে চাইনা। তারপরেও.....
মাঃ চুপ কর তুই। তুই যা ভাবিস তা একদমই অযৌক্তিক। আর আমি চাই তুই এই বিয়েটা কর এটাই আমার শেষ কথা।
-মা তুমি আমার আশফিকে যা ভাবছো ও একদমই সেরকম না। ওর মত ছেলে লাখে একটা মিলো। নিজের ভাতিজা বলে বলছিনা।
মাহিঃ এটাই তোমার শেষ ইচ্ছে তাইনা মা। আমার জন্য তুমি মুখ দেখাতে পারছোনা সমাজে তাইনা? ঠিক আছে আমি তোমার সিদ্ধান্ত মেনে নিলাম। আর কিচ্ছু বলবোনা আমি। বলেই বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসলাম রেগে।
মাঃমাহি কোথাই যাচ্ছিস। দাড়া।
-হ্যালো,আশফি মাহি রেগে বাইরে বেরিয়ে গেছে।
আশফিঃ কি? ঠিক আছে আমি দেখছি।
-ভাবি আপনি চিন্তা করবেন না। আশফি ওকে ফিরিয়ে নিয়ে আসছে।
মাহিঃ আত্মহত্যা পাপ না হলে এতক্ষণ জীবনটা শেষ করে দিতাম। মা ই যখন আমাকে বুঝলোনা তখন আর এখানে থেকে কি করবো?
-আহ্.........চারপাশ অন্ধকার লাগছে আমার কেউ মনে হচ্ছে মাথার পেছনে ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করলো।
আশফিঃ এতো রাতে মেয়েটা বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লো? এত সাহস? কিসের এত রাগ তোমার? মেয়ে মানুষ এত জেদ কিভাবে করো সেটাই আমি দেখবো।(গাড়ি চালাতে চালাতে বলছে)
রাস্তার মাঝখানে এত ভীড় কেনো? উফফ অসহ্য লাগছে আমার। ওকে খুঁজতে আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে। না পেরে গাড়ি থেকে নামলাম। সামনে এগিয়ে ভীড় ঠেলে ভেতরে ঢ়ুকলাম। কাছে গিয়ে যা দেখলাম,
-মাহি!!!(চিৎকার করে) ওর দেহটা নিচে পড়ে আছে। আর চারপাশে রক্তে ভেসে যাচ্ছে। আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে।মনে হচ্ছে এখনি পড়ে যাবো। খুব কষ্টে নিজেকে সামলে ওকে কোলে করে গাড়িতে আনলাম। কাঁদতে কাঁদতে চাচ্চুকে ফোন দিয়ে জানালাম। আমি ওকে তাড়াতাড়ি Hospital এ আনলাম। O.T নিয়ে গেলো ওকে। আমি বসে বসে কাঁদছি। চাচ্চু ওর মা কে সাথে নিয়ে আসলো। নিজেকে সামলাতে পারছিনা এর মধ্যে ওর মা বারবার senseless হচ্ছে। ওনাকে সামলানোর জন্য কাছে গেলাম। আজ নিজেকে অনেক বড় অপরাধী মনে হচ্ছে। আমি এতকিছু না করলে ওর আজকে এতবড় ক্ষতি হতোনা। ওর কিছু হয়ে গেলে আমি থাকতে পারবোনা,মরেই যাবো। মিনিমাম সাড়ে তিন ঘন্টা পর ডাক্তার বেরিয়ে এলো আমরা দৌঁড়ে গেলাম ওনার কাছে।
-ও কেমন আছে? ও ঠিক আছে তো? কি হলো কথা বলুন।
-আসলে ওর যা অবস্থা তাতে ওর ৮৫% বাঁচার আশংকা নেই। অনেক ভারী জাতিয় মানে রড বা লোহা জাতিয় কিছু দিয়ে আঘাত করেছে। আর এমন জায়গায় আঘাতটা করেছে যেখানে ওর এর আগেও অনেক বড় একটা অপারেশন হয়েছে। আর সেটাও অনেক বড় একটা আঘাত ছিল।
আশফিঃ কথা গুলো শুনেই আমি পাথরের মত হয়ে গেলাম।

ডাক্তারঃ আমরা আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। আর এই অপারেশনে সব থেকে expert যিনি ডঃ দুপুর হাসান তিনি আসছেন। আল্লাহ্ পাক সহায় থাকলে উনি পারবেন অপারেশন টা successful করতে। আপনারা ভেঙ্গে পরবেননা এখনও কিছুটা আশা রাখছি আমরা।
আশফিঃ আমি কাঁদতে কাঁদতে পাশে তাকালাম দেখলাম মাহির আম্মু ও কষ্টে পাথরের মত হয়ে গেছে।
-আশফি? বাবা তুই নিজেকে সামলা। তোকে তো শক্ত হতেই হবে। তুই মাহির মায়ের কাছে যা ওনাকে গিয়ে দেখ।(চাচ্চু)
আশফিঃ চাচ্চু। আমি জাস্ট 1 hour এর ভেতর তার লাশ চাই যে ওর এই অবস্থা করেছে। (স্বাভাবিক কন্ঠে)
-হুম আমি এখনি খোঁজ নিচ্ছি। তুই ওনার কাছে যা।
আশফিঃ আমি ওনার পাশে গিয়ে বসলাম।
-মামনি?উনি আমার দিকে অবাক হয়ে কিছুক্ষণ তাকালো।কিন্তু কোনো প্রশ্ন করলোনা। হয়তো করলে আমি এখনি বলে দিতাম আমি তোমার সেই বাদ্ধ্য আশফি। মানুষ টা আঘাত পেতে পেতে তার সব অনুভূতি নষ্ট হয়ে গেছে। আমি বলা শুরু করলাম।
-মাহি এর আগেও মাথার পেছনে আঘাত পেয়েছিল। কিন্তু সেটা কিভাবে। এবার মামনি কেঁদেই দিল। তারপর চোখটা মুছে বলা শুরু করলো।
- সেদিন রাতে আমি আর আশরাফ ভাই মাহি কে নিয়ে পালাচ্ছিলাম পেছনের সিড়ি দিয়ে এয়ারপোর্ট যাবো বলে। ঐদিন যারা আমাদের ওপর হামলা করেছিল ওরা আমাদের আটকানোর জন্য সামনে আসলো। মাহিকে আমার কোল থেকে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। এদিকে আশরাফ ভাই ওদের আটকানোর চেষ্টা করছিল কিন্তু পারছিলনা। এক সময় একজন মাহিকে আমার কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে মাহিকে নিয়ে চলে যাচ্ছিল আমি আটকাতে গেলে সে মাহিকে কোল থেকে নিচে ফেলে দেয়। আমি দৌঁড়ে ওর কাছে গেলাম। আশরাফ ভাই বললো ভাবি তুমি ওকে নিয়ে পালাও আমি সামলাচ্ছি ওদের। আমি ওকে নিয়ে পালালাম। তখন মাহির মাথা থেকে রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। তাড়াতাড়ি hospital এ নিয়ে গেলাম। ওরা ওকে O.T. তে নিয়ে গেলো। অনেক্ষণ পর আশরাফ ভাইকে ফোন করলাম ওনার খোঁজ নেওয়ার জন্য। উনি ঠিক আছে আমি ওনাকে Hospital এর ঠিকানা দিয়ে দিলাম। ঐদিন আর আমরা দেশে ফিরতে পারিনি। তারপর ডঃ বেরিয়ে এলো, আজকের মত ঐদিন ও ডঃ এসে বললো ওর বাঁচার আশ্ঙকা কম। আশরাফ ভাই এসে আমাকে সামলাচ্ছিল। অনেক্ষন পর অপারেশন শেষ হলো। সেদিন খোদা তা'য়ালা ওর সহায় ছিল। ডঃ এসে বললো ও বেঁচে গেছে কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ ভাবে না। ওর মস্তিষ্ক ...... (বলতে গিয়ে কেঁদে দিল)
ওকে স্বাভাবিক ভাবে পাইনি। ও পাগল হয়ে গেছিল। তার ১ মাস পর ওকে নিয়ে দেশে চলে আসি। অনেক সময় লেগেছিল সুস্থ হতে। সুস্থ হলেও ওর আগের কোনো কিছুই মনে ছিলনা। অনেক অল্প বয়সে এত বড় আঘাত ও নিতে পারিনি। তাই এই অবস্থা হয়ে গেছিল। আমি ওর মা আমাকে ও চিনতে পারেনি।সবসময় ওর কাছে থাকতাম বলে এইটুকু বুঝতে পেরেছিল আমি ওর আপন কেউ। নতুন করে ওকে আমাকে চেনালাম আমি ওর মা।
আশফিঃ এতো কিছু বললো বাবা কিন্তু এই ঘটনাটা তো আমাকে বলনি? অবশ্য বলার সময়টুকু ও যে সে পাইনি।(মনে মনে ভাবলো)। ভাবতেই ভাবতেই ফোন বেজে উঠলো। চাচ্চু ফোন করেছে। আমি ফোন নিয়ে উঠে চলে আসলাম।
-হ্যা চাচ্চু বলো।
কি??.............এতদূর চলে এসেছে?
ওর আর বেচেঁ থাকার কোনো অধিকার নেই just shoot him.
ও তাই? আল্লাহ্ পাক ও বুঝতে পেরেছে ওর আর বাঁচার প্রয়োজন নেই। তাই ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে মরেছে।(পালাতে গিয়ে)
আচ্ছা ঠিক আছে তুমি চলে এসো দরকার আছে। কথা বলা শেষ করেই দেখলাম আমার বয়সি একজন ডঃ অপারেশন থিয়েটারে ঢ়ুকলো।
-হায় খোদা তুমি ওর সহায় থেকো। এতো কষ্ট আর নিতে পারছিনা। যাকে safe করার জন্য এখানে আসা আমি আর সেই নিজেই তার এত বড় ক্ষতি করে দিলাম। আমি কোনোদিও চাইনি এটা করতে পাগলের মত ভালোবাসি ওকে।
এখন অলরেডি ১২:৩০ টা বাজে এখনও ওর অপারেশন শেষ হয়নি।চাচ্চু কে ফোন করে বললাম এত রাতে আসার প্রয়োজন নেই। মামনি কাঁদতে কাঁদতে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাই আমি জোর করেই কেবিনে ভর্তি করে দিলাম রেস্ট নেওয়ার জন্য। আর বললাম ডঃ বেরোলে আমি তাকে জানাবো। আমি এসে বসলাম। মাথা নিচু করে বসে আছি।
-মাহি আপনার কি হয়।
-ডঃ বেরিয়েছে আমি উঠে দাড়ালাম। আমি বললাম মাহি আমার বাগদত্তা।
উনি কেমন গম্ভীরভাবে তাকিয়ে থাকলো।
-ওহ্ আচ্ছা। অপারেশন successful. আর হ্যা এটা আমার কার্ড। এখানে আমার নাম্বার আছে ও কেমন আছে সেটা আমাকে জানাবেন। আসলে আমি কিছুক্ষণ পরই লন্ডন চলে যাবো। তাই......
-আমি প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে ওনার দিকে তাকালাম. উনি বুঝতে পেরেছে সেটা।
-ও হ্যা আমার পরিচয়টা দেই। আমি দুপুর হাসান। আমরা একই কলেজে পড়তাম।তবে আমি ওর সিনিয়র ছিলাম।যাই হোক মাহির বিপদ টা এখনও কাটেনি। sense ফেরার পর বোঝা যাবে ও কতটুকু সুস্থ। আমি যে ভয়টা পাচ্ছি সেটা যেনো আল্লাহ্ সত্য না করে।
-কি ভয় পাচ্ছেন আপনি? বলুন।
-কোমায় চলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে সেটা 50% সম্ভবনা। বাকি 50% পুরোপুরি সুস্থ। একমাত্রই উপরওয়ালাই ভরসা। ওর খেয়াল রাখবেন আমি আসছি।
দুপুরঃ আমি কোনোদিও ভাবিনি মাহি তোমাকে এই অবস্থায় দেখবো। আমি যখন তোমাকে দেখলাম তখন আমার দেহ থেকে প্রাণটা বেরিয়ে আসতে চাইছিল। মাহি? আজকে তুমি অন্য কারোর হয়ে গেলে। আমিও তো তোমাকে ভালোবেসেছিলাম। কিন্তু সেদিন তুমি আমাকে গ্রহণ করোনি।তুমি বলেছিলে তোমার জীবনে এগুলোর কোনো স্থান নেই। আমি সেদিনই promise করেছিলাম তুমি যদি কাউকে কোনোদিন গ্রহণ করো তাহলে আমিও সেদিনই অন্য কাউকে বিয়ে করবো। কিন্তু তোমাকে দেখার পর যে আমি আমার প্রমিস রাখতে পারছিনা। আমি পারবোনা অন্য কাউকে গ্রহণ করতে। তবে তোমার হবুবরটা অনেক সুন্দর।আর তোমাকে খুব ভালোবাসে দেখেই বোঝা যাচ্ছে। তোমার মঙ্গল কামনা করি ভালো থেকো।
আশফিঃ মামনির কাছে গেলাম।সবকিছু বললাম। মামনি মাহির কাছে গেলো। তারপর নিজেকে সামলে তাহাজ্জুদের নামায পড়া শুরু করলো। আমিও মামনির কেবিনে এসে নামায পড়তে বসলাম। সারারাত জেগে পড়লাম। অনেক্ষন ধরে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে মোনাজাত করছিলাম ওর জন্য। মোনাজাত শেষ করে উঠে দাড়ালাম তখন দেখলাম মামনি পিছে দাড়িয়ে আছে। আমার কাছে দাড়িয়ে কাঁদতে শুরু করলো।
- আমি জানিনা আমি জীবনে কি পাপ করেছি যার জন্য আল্লাহ্ আমার থেকে সব কেড়ে নিতে চাইছে। তবে আমি এই প্রথম নিজেকে ছাড়া অন্য কারোর ওপর ভরসা করছি। যেমনটা আশরাফ ভাইয়ে ওপর করেছিলাম আর আজকে তারই ছেলের ওপর করছি।
আশফিঃ আমি কিছুটা অবাক হয়েই গেলাম।
-তুমি তোমার পরিচয় না দিলেও আমি তোমাকে ঠিকই চিনেছি যখন তুমি আমাকে মামনি বলে ডাকলে।
আশফিঃ আমি মামনিকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলাম। মামনি, তোমরা চলে আসার পর আমি তোমাদেরকে ভুলে থাকতে পারিনি। মাহিকে ভুলতে পারিনি। ছোটোবেলাই বাবার কাছে অনেক শুনেছি তোমরা কোথায়? কেনো এখান থেকে চলে গেলে? তুমি জানো বাবা......???(ব
লতে গিয়েও থেমে গেলাম। এই মূহুর্তে এসবকিছু বলা ঠিক হবেনা)
- আমি বুঝতে পেরেছি তোর ভালবাসা মিথ্যে হতে পারেনা। তুই পারবি ওকে ওর ভুল ধারনা থেকে বের করতে। ও ওর বাবার আর কিছু না পেলেও তার দুটো জিনিস পেয়েছে। রাগ আর জেদ। যে ভাবেই হোক তুই ওকে বুঝিয়ে দিবি যে সব পুরুষেরাই এক না।
আশফিঃ মামনি আমিও যে জেদের বসে ওর সাথে একটা অনেক বড় অন্যায় করে ফেলেছি শুধুমাত্র ও যাতে বিয়ে করতে বাধ্য হয়।মামনিকে সব বললাম মাহিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা। মামনি শুনে কিছু বলতে গিয়েও চুপ করে থাকলো কিছুক্ষণ। তারপর বললো,
- যেটা নষ্ট হয়ে গেছে সেটা আর ফিরে আসার নয়। কিন্তু ওকে বিয়ে করার এই পদ্ধতিটা ভুল ছিল তোর। যাইহোক এটা যেনো কোনোদিও ও জানতে না পারে। জানলে ও আর তোর কাছে থাকতে চাইবেনা। ওর যে ভুল ধারনা আছে তাহলে সেটাই ওর কাছে সত্যি বলে মনে হবে।
আশফিঃ কথা বলতে বলতে ভোর হয়ে গেলো। ফজরের আযান দিয়েছে। আমি আর মামনি নামায আদায় করলাম। খুব সকালে চাচ্চু চলে এসেছে।
-চাচ্চু মামনি আমাকে চিনতে পেরেছে। আর মাহির কথাগুলোও বললাম।
-যাক,আল্লাহ্ ভরসা। উনি সব কিছু ঠিক করে দেবে।
-হুম। তুমি এক কাজ করো মামনি কে আমার বাসায় নিয়ে যাও। ওখানেই থাক মামনি।
আমি মামনিকে গিয়ে বললাম আমার বাসায় যেতে। মামনি যেতে রাজি হচ্ছিলনা। তারপর অনেক কষ্টে রাজি করিয়ে পাঠিয়ে দিলাম। আর আমি এখানেই থেকে গেলাম। কারণ এখনও মাহির life risk আছে। যেকোনো সময় আবার attack করতে পারে ওরা।
(৩ দিন পর)
আশফিঃ মামনি তুমি ওর কাছে যাও। আমি এখন ওর সামনে যাবোনা।
- ঠিক আছে।(মামনি)
আশফিঃ আজকে ভোরেই ও sense ফিরে পেয়েছে। ও একদম সুস্থ আছে। আল্লাহ্ পাকের অশেষ ক্রিপা। তার পরেরদিন ওকে ওর বাসায় নিয়ে গেলো। আমার বাসায় ওকে নিয়ে যেতে চাইলাম ও আসতে চাইলোনা। ও সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আমি ওর বাসায় থাকা শুরু করলাম। যদিও ওর সেটা পছন্দ ছিলনা। আমি সেবা করতে গেলেও ও আমাকে বাঁধা দেই।আমি জোর করেই করি। একদিন ওকে ওষুধ খাইয়ে দিচ্ছি,
ও তখন বললো,
মাহিঃ এগুলো করে আপনি কি প্রমাণ করতে চাইছেন। অনেক বেশি ভালোবাসেন?? কিন্তু সেটা ঠিক কতদিনের জন্য???
আশফিঃ আমি ওর কোনো কথার উত্তর না দিয়ে বেরিয়ে আসতে গেলাম তখন দেখলাম মামনি দরজার কাছে দাড়িয়ে আছে। আমি শুধু একবার তাকিয়ে চলে আসলাম।
মাঃ মাহি? এখন কেমন লাগছে মা?
মাহিঃ হুম। আগের থেকে বেটার ফিল করছি।
মাঃ মা, আজকে তোকে আমি কিছু কথা বলবো। তুই শুধু শুনবি। ভালো খারাপ উভয়ের মিশ্রণে পৃথিবী তৈরি। সেখানে কিছু ভালো মানুষ বাস করে আর কিছু খারাপ। তাই বলে সবাই খারাপ না।এখানে কেউই একা বাস করতে পারেনা। আমাদের আদি পিতা আদম(আঃ) এর জন্য ও আল্লাহ্ পাক একজন সঙ্গী সৃস্টি করেছিল তার একাকিত্ব দূর করার জন্য। আমি কি বলতে চাইছি তুই সেটা বুঝতে পারছিস?
মাহিঃ হুম। তার মানে আমাকে বিয়েটা করতেই হবে তাইতো? ঠিক আছে।
মা আমার কপালে চুমু দিয়ে চলে গেলো। কিন্তু আমি যে নিজের মনকে কোনোভাবেই তোমার মত করে বুঝ দিতে পারছিনা মা। জানিনা কি হবে। কিন্তু আমি শুধু তোমার কথা রাখার জন্যই বিয়েটা করবো।
( ২ মাস পর)
আশফিঃ আজকে মাহিকে বিয়ে করে নিজের ঘরে নিয়াসছি। তবে আর সবার মত ও বৌ সাজেনি। যেভাবে ছিল সেভাবেই বিয়ে করেছে। তাই নিজেকেও বরের মত করে উপাস্থাপন করিনি। মামনি ওকে অনেক বকাবকি করছিল এভাবে থাকার জন্য। তারপর আমি মামনি কে বলেছি ও যেভাবে থাকতে চাই সেভাবেই থাকুক। মামনি আমাকে পরে ডেকে কিছু কথা বললো। কথা গুলোর সারমর্ম এটাই ছিল আমি যেনো ওকে নিজের মত করে চলতে না দিই। ভালোবাসা+শাসনের ওপর রাখি। শুনে ভালোই লাগছিল। আর আমারও অলরেডি ভাবা হয়ে গেছে বিয়ের পর আমি ওকে কিভাবে রাখবো। কিন্তু একটা জায়গায়ই চিন্তা ওর কথা+কার্যকলাপে আমার মাথা গরম হয়ে গেলে ওর সাথে কি করবো সেটা জানিনা। মাথা গরম হয়ে গেলে হাজার চেষ্টা করলেও নিজেকে কনট্রোল করতে পারিনা। নেহাৎ সেদিন ও অসুস্থ ছিল তাই ওর কথা মুখ বুজে সহ্য করে বেরিয়ে গিয়েছিলাম। না হলে ঐ মূহুর্তে ওকে যে কি করতাম?????? যাই হোক আমি এখন গাড়িতে বসে আছি। ওকে নিয়ে আমার বাড়িতে যাচ্ছি
-সোনা তোমার খুব গরম লাগছে?
মাহিঃ গরম লাগবে কেনো। এসি চলছে আর আমি তো simple পোশাকেই আছি।
আশফিঃ ওওও..... আসলে আমার কাছে মনে হলো পোশাকটা খুব ভারী হয়ে গেছে। তুমি যদি বলো আমি এখনি সর্ট টপস্ কিনে নিয়াসছি।
মাহিঃ মানে কি? ফাজলামি করছেন আমার সাথে?
আশফিঃ একদম না(মাথা নাড়িয়ে)
ওকে রাগানোর জন্যই বললাম। বিয়ের দিনেও কেউ এমন পোশাক পরে সেটা বোঝালাম। আজকে কোনো আয়োজন করিনি বাড়িতে। কাল করবো। আমি নিজেই আগে ঘরে গিয়ে ওকে বরণ করলাম। ও তো চোখ গরম করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। ওকে আমার ঘরে নিয়ে এলাম।ও আমাকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আমি বললাম,
- দেখো তুমি তো এটাই বলবে আমি যেনো তোমার ঘরে না থাকি, এক বিছানায় না শুই, তুমি আমাকে স্বামির অধিকার না দেওয়া পর্যন্ত তোমার কাছে না আসি.....etc.....
আমি আগে থেকেই বলে রাখছি এর কিছুই আমি মানতে পারবোনা। আর তুমি আমার কাছে এটা আশাও কোরোনা। এতদিনে আমাকে নিশ্চই চিনে গেছো আমি কেমন? আর আমি তোমাকে বিয়ের আগেই টাচ্ করেছি। তাই আমার যখনই মন চাইবে তখনি আমি তোমার কাছে আসবো। কারণ তুমি আমার স্ত্রী তোমার ওপর আমার পূর্ণ হক আছে। আর কিসব নিয়ম নীতি যেনো আছে দেনমোহর কাবিন কি কি....যাইহোক সবকিছুই আমি পরিশোধ করে দিয়েছি তাই তুমি যে কজ ই দেখাও আমাকে আটকাতে পারবেনা।বুঝেছো বাচ্চা???
মাহিঃ কি বলবো আপনাকে ভাষা খুঁজে পাচ্ছিনা। লুচু কোথাকার
আশফিঃ কি বললে তুমি? ওর দিকে এগিয়ে গেলাম ও ভয়ে পিছিয়ে গেলো?
-ও কাম অন ডিয়ার(শান্ত গলায় বললাম) ছেলে মানুষ লুচু হবে না তো কি মেয়ে মানুষ হবে? আর ছেলে মানুষ লুচু না হলে তাকে ছেলে মানুষ
বলেনা।
মাহিঃ তো কি বলে?
আশফিঃ থাক বললাম না। হয়েছে এখন চলো খেতে দাও আমাকে।
মাহিঃ কি? বাড়িতে তো একশো কুড়ি কাজের লোক। এক একটা কাজের জন্য আলাদা আলাদা মানুষ। তো আমি কেনো খেতে দিব?
আশফিঃ হুম। কিন্তু রান্না করা আর খেতে দেওয়া এটা বাড়ির বৌদের করতে হবে। এটাই আমাদের বাড়ির নিয়ম।
মাহিঃ তো এতদিন কিভাবে খেলেন?
আশফিঃ এবার আমার সত্যিই রাগ হয়ে গেলো। এতদিন বৌ ছিলনা তাই খেতে বাদ্ধ্য হয়েছি। আর এত কথা আমি শুনবোনা দিতে বলেছি দিবে।
মাহিঃ পারবোনা। একদিন আসতে না আসতেই অর্ডার করা শুরু হয়ে গেছে। অসহ্য।
আশফিঃ তুমি sure তুমি দিবেনা? ভেবে দেখো।
মাহিঃ Damn sure. দে....বো...না।
আশফিঃ আমি এখন সেটাই করবো যেটা তুমি চাওনা। আমি ওকে একটানে কাছে নিয়ে এসেই.................
হ্যাঁ যেটা ভাবছেন সেটাই। অনেক্ষন ধরে ওর ঠোঁটে চুমু দিয়ে ঠৌঁটটাকে একদম লাল করে দিলাম। এরপর ওকে ছেরে দিয়ে বললাম
-কি মজা পেয়েছো??? নিশ্চই অনেক মিষ্টি!! ।এরপর ও যদি খেতে না দাও তাহলে এরপরে যেটা বাকি আছে সেটাই করবো। তারপর ও রেগে গজগজ করতে করতে চলে গেলো। বেচারি
বাহ্ কি সুন্দর পরিবেশন করছে। আমি গিয়ে খেতে বসলাম। আর বললাম আমি যতক্ষণ খাবো ততক্ষণ আমার পাশে ওকে বসে থাকবে।
মাহিঃ উনি কি মানুষ নাকি অন্যকিছু। আমি প্লেট টা এগিয়ে দিয়ে বসে আছি। কি হলো প্লেট টা এরকম সামনে নিয়ে বসে আছে কেনো?
আশফিঃ খাবার বাড়ো।
মাহিঃ ওহ এর জন্য বসে আছে?যাক এইটুক দয়া হলো আমার জন্য। আমি একটা প্লেট নিয়ে খাবার বাড়লাম। ওনার দিকে চোখ পড়লো আবার এভাবে রাগি চোখে তাকিয়ে আছে কেনো?
-কি হয়েছে?
-আমি আমার প্লেটে খাবার বাড়তে বলেছি। তোমার প্লেটে না।
মাহিঃও আচ্ছা। আমি তো ভাবলাম......
দিচ্ছি। আমি ওনাকে খাবার বেড়ে দিয়ে খাওয়া শুরু করলাম। মনে হলো উনি আমার দিকে তাকিয়ে আছে না খেয়ে। oh god এখন কি আবার খাইয়ে দিতে বলবে নাকি।
-আবার কি হলো?
-আমি কি খাওয়া শুরু করেছি?
-না ( মাথা নাড়িয়ে)
-তাহলে তুমি আগেই কি কারনে আগে খাওয়া শুরু করলে?
-তার মানে?
-তার মানে আমরা এক সাথে খাওয়া শুরু করবো কেউ আগেনা। বুঝেছো? কথাটা মাথায় থাকে যেনো।
মাহিঃ ও মা এ আমি কোথায় পরলাম।
খাওয়া শেষ করে ঘরে গেলাম ওনার সাথে। এখন দেখছি উনি কি করে। ল্যাপটপ নিয়ে বিছানায় বসলো। আমি ওনার পাশে গিয়ে কিছুটা দূরে শুতে গেলে তখন উনি আমাকে থামিয়ে দিলেন।
আশফিঃ ওয়েট আগে এটা দেখো। (ল্যাপটপ টা এগিয়ে দিয়ে) এখানে আমার সাথে আর আমার বাড়িতে থাকার জন্য কিছু রুলস আছে এটা ফলো করবে কাল সকাল থেকে।
মাহিঃ এটা কি লিখেছে উনি। দেখেই আমার চোখ কপালে উঠে গেলো।এ তো রুলসের কারখানা। আর কি সব রুলস। তার ভেতর একটা রুলস হলো উনি যখনই বাইরে যাবে তার আগে আমি যেনো ওনার সামনে থাকি উনি আমাকে আদর করে তারপর বাইরে যাবে। এরকম আরও অনেক বিদঘুটে রুলস লিখে রেখেছে।
আশফিঃ থাক এখনই সব দেখতে হবেনা। কাল দোখো। এখন কিছুই তোমার মাথায় ঢুকবেনা। শুয়ে পড়ো।
ও আমার দিকে কেমন ভয়ের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
-আরে কি হল এরকম ভয় পাচ্ছো কেনো?
হুম বুঝেছি। ভয় নেই এখন কিছুই করবোনা। তবে পুরোপুরি surity ও দিতে পারছিনা।
মাহিঃ আমি ওনার কথা গুলো শুনে চুপ করে শুয়ে পরলাম।
আশফিঃ এই তুমি মাঝে এরকম ২ হাত ফাঁকা রেখে শুয়েছো কেনো? আমার কাছে সরে এসো। এটাও কি রুলসে দিতে হবে? এসো বলছি।
মাহিঃ কি মহা জালায় পরলাম। আমি ওনার কাছে সরে গেলাম।
আশফিঃ এটাকে কাছে আসা বলে?? তুমি কি চাচ্ছো এখন আমি তোমাকে..............
মাহিঃ না না এইতো আসছি। আরও সরে আসলাম।
আশফিঃ আজব? আমাকেই সব শেখাতে হবে তোমাকে। কথাটা বলেই ওকে একটানে আমার বুকের কাছে নিয়ে আসলাম।
-হুম এখন জড়িয়ে ধরো আমাকে। কি হলো? first.
মাহিঃ হুম ধরছি তো। তারপর ওনাকে জড়িয়ে ধরলাম হলকা করে। উনি আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
আশফিঃ রোমান্স কাকে বলে আজ থেকে শিখিয়ে দিব।
মাহিঃ সকালে উনি গোসল করে বাথরুম থেকে বের হলো।শুধু টাওয়াল টা পরা ছিল। চুল হাত দিয়ে মুছতে মুছতে আয়নার সামনে গিয়ে দাড়ালো। আমি বসে ফোন টিপছিলাম।বডিটার দিকে নজর গেলো আমার। তাকিয়ে দেখছি কি ফিগার!! একদম Jiang chao এর মতোই। তারপর তাড়াতাড়ি চোখ ফিরিয়ে নিলাম। তারপর বাইরে চলে যেতে যাবো তখন উনি আমার হাত ধরে কাছে টেনে কোমোর জড়িয়ে ধরলো।
আশফিঃ কি লজ্জা পাচ্ছো?
মাহিঃ হুম।
আশফিঃ উহহ... আমি তো দেখলাম তুমি আমার দিকে তাকিয়ে আমার body shape দেখছিলে।
মাহিঃ কোথায়? আমি তো ফোন টিপছিলাম।
আশফিঃ আমি কি দেখিনি? আয়নায় সব দেখা যাচ্ছিল। ওকে আরও কাছে টেনে এনে ওকে আদর করা শুরু করলাম ওর গলা আর ঘারে। ও আমাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে আমার খুব রাগ হয়ে গেলো। তখন আমি ওকে....

আশফিঃ তখন আমি ওকে কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। তাই রেগে গিয়ে ওর পেটে খুব জোড়ে চাপ দিয়ে ধরলাম আর ওর গালে অনেক জোড়ে একটা কামড় বসিয়ে দিলাম।
মাহিঃ আআআআ...... আপনি কি মানুষ নাকি সত্যিই গন্ডার? এভাবে মানুষ মানুষকে কামড়ায়। । দেখুন কি করেছেন একদম কামড়ের দাগ বসে গেছে। এখন আমি সবার সামনে যাবো কি করে?
আশফিঃ ভালো হয়েছে। যাও তুমি এখান থেকে। মুড টাই নষ্ট করে দিল অসহ্য একটা মেয়ে।
মাহিঃ আপনি................ (বলতে গিয়ে থেমে গেল)
মনে হল মায়ের গলাে আওয়াজ শুনলাম। মা কখন এলো??
আশফিঃ মামনিকে অনেক সকালেই চাচ্চু নিয়ে এসেছে।
মাহিঃ কিন্তু এসে তো আমার সাথে দেখাও করলোনা।
আশফিঃ কি করে করবে? সে তো তোমার মত বসে থাকার মানুষ না। এসে ব্রেকফাস্ট বানাচ্ছে। তোমার তো আর রান্না করার যোগ্যতা নেই।
মাহিঃ হুহ। আমি বেরিয়ে কিচেনে গেলাম মা তখন রান্না করছে।
-মা তুমি এসে আমার সাথে দেখা করোনি কেনো?
মাঃ তুই তো ঘুমোচ্ছিলি। আর আমি এসে আগেই রান্নাঘরে ঢুকেছি।রান্না শেষ আমি টেবিলে খাবার দিয়ে দিচ্ছি তুই যা ওকে ডেকে নিয়াই।
মাহিঃ আমি পারবোনা। তুমি যাও। বলেই বাইরে চলে আসলাম বাগান টা ঘুরে দেখবো বলে।
-আরে বাড়ির চারপাশে এতো সিকিউরিটি গার্ড কেনো? এর আগে তো দেখিনি।
পেছন ঘুরে দেখলাম উনি আর চাচ্চু কথা বলতে বলতে বাইরে আসছে। চাচ্চু আমাকে এখানে দেখে আমার কাছেই আসছে আর উনি ফোনে কথা বলছিল।
চাচ্চুঃ গুড মর্নিং মামনি।
মাহিঃ গুড মর্নিং চাচ্চু।
চাচ্চুঃ কি সকালের আবহাওয়া উপভোগ কোরছো?
মাহিঃ হ্যা ভালো লাগছে ওয়েদারটা।
চাচ্চুঃ হ্যা। সবসময় এভাবেই হাসিখুশি থাকবে। ঠিক আছে?
মাহিঃ হুম। উনি কথা বলা শেষ করে এদিকেই আসছে।
আশফিঃ কি কথা হচ্ছে তোমাদের? গল্প পরে কোরো ব্রেকফাস্ট করতে হবে চলো।
মাহিঃ ব্রেকফাস্ট টেবিলে বসে ওনাদের কথা শুনতে শুনতে আমার কান ঝালাপালা হয়ে যাচ্ছে। অনুষ্ঠান কিভাবে করবে কি করে সাজাবে এগুলো নিয়েই।
আশফিঃ চাচ্চু তোমার সাথে আমার আরও কিছু কথা আছে নাস্তা শেষ করে আমার ঘরে এসো।
চাচ্চুঃ হুম। ঠিক আছে। তুই যা আসছি।
আশফিঃ চাচ্চু আমাদেন কিন্তু আরও কড়া গার্ড ব্যবস্থা করতে হবে। আজকে ওরা সুযোগ নিলেও নিতে পারে। ওরা হয়তো জেনে গেছে আমার আর মাহির বিয়ে হয়ে গেছে। তাই তুমি খুব ভালো ভাবে চেক কোরো সব ঠিক আছে কিনা। আর বাইরের কাউকেই accept করা যাবেনা।
চাচ্চুঃ হুম। আজকে অনেক কেয়ারফুল থাকতে হবে। কিন্তু একটা বিষয় আমি ভাবছি পার্লার থেকে লোক আসবে ওকে সাজাতে সেটা কি আমাদের এলাও করা ঠিক হবে?
আশফিঃ একদম না। এই ভুল টা তো করাই যাবেনা।
মাহিঃ মা বাইরে এতো গার্ডের ব্যবস্থা কেনো?
মাঃ তোর সিকিউরিটির জন্য। সেদিন তোকে যারা আঘাত করেছিলো তারা যাতে আর তোর তোনো ক্ষতি না করতে পারে তাই।
মাহিঃ কিন্তু ওরা কারা ছিল? কেনো আমাকে মারতে এসেছিল?
মাঃ সেটা তো আমিও জানিনা।
আশফিঃ মামনি আজকে কিন্তু তোমাকেই তোমার মেয়েকে সাজাতে হবে। বাইরের কেউ সাজাতে পারবেনা ওকে।
মাঃ ঠিক আছে আজকে আমিই ওকে সাজাবো।
মাহিঃ বাবা.... মায়ের সাথে যেভাবে কথা বলছে তাতে মনে হচ্ছে কত আগে থেকেই না মা কে চিনে। ভালোই পারে।
আশফিঃ মাহি আমার ঘরে এসো। একটু দরকার আছে।
মাহিঃ জি বলুন কি করতে হবে?
আশফিঃ এটা ধরো, এই ক্যামেরা টা তোমার শরীরে এমন জায়গায় ফিট করবে যাতে তোমার আশেপাশে কারা আছে সেটা দেখা যায়। আমিও সবসময় তোমার সাথে থাকার চেষ্টা করবো। তারপরও.......
মাহিঃ আমার কাছে ক্যামেরা থাকলে আপনি কিভাবে দেখতে পাবেন সব?
আশফিঃ এই ক্যামেরা টার সাথে আমার মোবাইল কানেক্ট করা আছে তাই তুমি কি করছো তোমার আশেপাশে কে আছে সব আমি মোবাইলে দেখতে পাবো। বুঝেছো? আর হ্যা দয়া করে নিজে সাজতে যাবেননা। না হলে আমার প্রেস্টিজের ১২ টা বাজবে। আপনার যা পছন্দ??
মাহিঃ কি বলতে চাচ্ছেন আপনি? আমি সত্যিই unsmart??
আশফিঃ তাতে কোনো সন্দেহ আছে?
মাহিঃ এইভাবে আমাকে অপমান করলো? আজকে আমি সত্যিই আপনার প্রেস্টিজের ১২ টা বাজাবো? দেখে নিয়েন।
(সন্ধ্যায়)
মাহিঃবাব্বাহ!! এক দিনের ভেতরেই এতো সুন্দর করে সাজিয়েছে?? জবাব নেই ।
এতক্ষনে আমাকে চোখে দেখে এখন আমার কাছে আসছেন।
আশফিঃ হুম। ভালোই লাগছে। মামনি সাজিয়েছে বলেই রক্ষা। না হলে যে......
মাহিঃ না হলে কি?
আশফিঃ কিছুনা।
মাহিঃ কি খুঁজছেন উনি এভাবে?
-কি হয়েছে? কি দেখছেন এভাবে?
আশফিঃ সেটা কোথায়?
মাহিঃ এই যে। মাথার এক পাশ ঘুরিয়ে কানের ওপরে দেখালাম গয়নার ভেতর।
আশফিঃ বাহ্।একদম পারফেক্ট। বোঝাই যাচ্ছেনা। এখন এসো আমার সাথে। সবাই প্রায় চলে এসেছে।
মাহিঃ সবার সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। আমিও হ্যালো হ্যালো করছি সবার সাথে। কি একটা বিরক্তিকর পরিস্থিতি আর ভালো লাগছেনা। উনি আমাকে নিয়ে সবার মাঝখানে দাড়িয়ে সবাইকে গুড ইভিনিং জানালে। তারপর উনি আমার সম্পর্কে ওনার সম্পর্কে অনেক কিছুই বললেন। কিন্তু তার পর উনি এটা কি বললেন?
আশফিঃ আর হ্যা আজকে মাহি নিজেই একটা গান গেয়ে অনুষ্ঠান টা শুরু করবে। ও অনেক সুন্দর গান গাইতে পারে।
(ক্লাব ক্লাব ক্লাব)
মাহিঃ আশ্চর্য উনি কি করে জানলেন আমি গান ভালো গাই না খারাপ গাই। উনি তো আমার গান গাওয়া কোনোদিন শুনেইনি। আমার কাছে না শুনেই উনি এভাবে বলে দিল। কাজটা উনি ভালো করলো না।এখন আমি সত্যিই ওনার প্রেস্টিজের ১২ টা বাজানো শুরু করবো।
আশফিঃ মাহি, তুমি শুরু করো আমি মিউজিক বাজাতে বলছি।
মাহিঃহুম।আমি একটা টেবিলের কাছে গিয়ে বসলাম। আর উনি আমার সামনে গিটার হাতে নিয়ে বসলো। গিটার টা উনিই বাজাবে।
মাহিঃ তাহলে শুরু করি?
আশফিঃ অবশ্যই।
মাহিঃ সামনে টেবিল ছিল। উনি যখনই গিটার বাজাতে যাবে আমি তখই টেবিল থাবড়িয়ে টেবিল বাজানো শুরু করলাম। তারপর গান শুরু........
Ai ai aiyoo,,,ai ai aiyoo
Dreamum wekeupum critical conditionam.....
Heee.....artham krekapum hiladola saab shetapum....
Face to faceum dhartibothram, taaf to besum tamasoterum.
Kraijaam khandaram daun dan mandram, fraijaam nataram thinktom mandaram
Jumpingummm.... pumpingummm... thahapingum.... thumpingummm...........
hondu rande monenale
(টেবিল মিউজিক)
Ummmmwahhhhhhhh
( টেবিল মিউজিক)
Ummmmwahhhhhhhh
( টেবিল মিউজিক)
Ummmwahhhhhhhhh
(টেবিল মিউজিক)
Ummmwahhhhhhhhh
-আমার গানটার সাথে মিউজিসিয়ানরা ও মিউজিক বাজাতে গিয়ে তাকিয়ে থাকলো। আর উনি তো অলরেডি থ হয়েই আছেন। গানটা শেষ করে সবার দিকে তাকিয়ে দেখলাম সবার মুখ গুলোই একি রকম হা হয়ে আছে। আমার অবশ্য একটু লজ্জা লাগছিল। কিন্তু তার চেয়ে বেশি ভালো লাগছিল ওনার প্রেস্টিজকে একদম খিচুরি বানিয়ে দিয়ে।
হঠাৎ পেছন থেকে একজন নাদুসনুদুস লোক তালি বাজানো শুরু করলেন। ওনার তালি বাজানোর শব্দ শুনে সবাই একে একে তালি বাজালো।
তারপর ঐ নাদুসনুদুস লোক তালি বাজাতে বাজাতে আমার কাছে এসে বললো,
-excellent mam excellent. kya gaati hain aap. bengali hone ke baad bhi aap kitni acchi gaati hain tamil gaana.....superb
মাহিঃ ওহ!! thanks thanks.
তার মানে এ ইন্ডিয়ান?
আর উনি তো লজ্জায় বার বার সবার মুখের দিকে তাকাচ্ছেন যে তারা কি ভাবলো তারপর গরুর মত চোখ দুটো করে মনে মনে গর্জন করছে হয়তো। হুহুহু ।
আশফিঃ মাহি এটা ইচ্ছে করে গাইলো সবার সামনে আমাকে ছোটো করবে বলে। ওর আজকে কপালে দুঃখ আছে।
-(গলায় কাশির শব্দ করে) সবাই এখন আপনারা প্লিজ নিজেদের মত enjoy করুন। আমি উঠে যখন ওর কাছে যাবো ও তাড়াতাড়ি উঠে কিছু গেস্টদের কাছে গিয়ে দাড়ালো।
- কি মনে করছো তুমি কতক্ষন এভাবে আমার থেকে পালাবে। পার্টি শেষ হোক তোমাকে দেখছি।
তোমার প্ল্যানিং আমি বুঝে গেছি এখন থেকে তোমাকে চোখে চোখেই রাখছি।
মাহিঃ ওনার কিছু স্পেশাল গেস্টদের সাথে আমরা খেতে বসলাম। আমি ওনার ভয়ে মায়ের পাশে গিয়ে বসতে যাবো তার আগেই উনি এসে মায়ের পাশে বসে পড়লো আর আমাকে ওনার পাশের সিটে হাত ধরে টেনে ঠাস করে বসিয়ে দিল। এখন তো ওনার পাশে বসে আমি কিছুই করতে পারবোনা। নাহ্ আর হলোনা। কিছুক্ষণ পর আমাদের খাবার সার্ভ করে হল।প্লেটে ইয়া বড় একটা মুড়গির রান দেখে মাথায় শয়তানি বুদ্ধিটা চলে আসলো। এগুলো করতে আমার নিজের কাছেই লজ্জা লাগছিল।কিন্তু উনি সবসময় আমাকে ছোটো করে কথা বলে আমি এত স্মার্ট হওয়া সত্তেও আমাকে আনস্মার্ট বলে তাই ভেবেছি সবার সামনে নিজেই আনস্মার্ট সাজবো ওনাকে তো আর আনস্মার্ট করা সম্ভবনা। আমি সাজলেই ওনার প্রেস্টিজ যাবে।আমি এখন ভাবছি এই রানটাকে ঠিক কিভাবে কাটলে ওটা ছুটে সামনে পড়বে। হুম বুঝে গেছি।
আশফিঃ তুমি কি ভেবেছো আমি বুঝিনি কিছু তুমি ঠিক কি করবে এখন? রানটার দিকে তাকানো দেখেই আমি বুঝতে পেরেছি। আমার নজর এখন তোমার দিকেই আছে শুধু।
মাহিঃ আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি রানটাকে খুন করার জন্য। মানে ছুরি দিয়ে যেভাবে মানুষকে খুন করে ঠিক সেভাবে। ছুরিটা উঁচু করে যখনি রানটা কাটতে যাবো তখনি উনি আমার হাতটা ধরলেন।
আশফিঃ কি হয়েছে ডিয়ার তুমি এভাবে এটাকে কাটছো কেনো?(দাতে দাত চেপে) ও আঙ্গুল কেটে গেছে? আমাকে বলবে তো দাও আমি তোমাকে হেল্প করছি। কি ভাবছো আমি কিছু বুঝিনা? ভালোভাবে খাবার গুলো খাও তারপর তোমাকে দেখছি।
মাহিঃ এটা কি হলো। উনি বুঝে গেলো? তাহলে তো আর কিছুই করা যাবেনা।
খাওয়া শেষ করে আমি দাড়িয়ে আছি মুডটা খারাপ করে। হঠাৎ করেই উনি পাশে এসে দাড়ালেন।
আশফিঃ একটু ফিল্মি ফিল্মি হয়ে গেছে, প্ল্যানিংগুলো চেইন্জ করো। কথাটা বলেই ওর মুখের দিকে তাকালাম। রেগে তাকিয়ে আছে। তারপর আমি অন্যসব গেস্টদের সাথে কথা বলতে চলে গেলাম। পার্টি শেষ করতে করতে অনেক রাত হয়ে গেছে। ঘরে এসে দেখলাম ও ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বেরোলো।ওকে দেখে মনে পড়লো ও আজকে যে কাজটা করেছে তার তো একটা শাস্তি দেওয়া দরকার। আমি জামা কাপড় ছেড়ে হাফ কুয়ার্টার একটা প্যান্ট পড়লাম।
-মাহি? এদিকে এসো।
-কি হয়েছে এভাবে চিল্লাচ্ছেন কেনো?
-আসলে আমি এতোটাই tired ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হওয়ার energy টুকুও নেই।
-তো? আমি কি করবো?
-তুমি টাওয়াল টা ভিজিয়ে আমার পুরো শরীর টা মুছে দাও।
-কি??
-হ্যা। আর শোনো হালকা গরম পানিতে টাওয়াল ভিজিয়ে এনো। একটু শীত শীত লাগছে।
- তার থেকে আমি আপনাকে কোলে করে নিয়ে গিয়ে ফুটন্ত পানিতে চুবিয়ে আনি।
- এই তুমি আমাকে সত্যিই কোলে নিবে!! প্লিজ নাওনা তাহলে ফুটন্ত পানিতে চুবিয়ে আনলেও সমস্যা নেই।
-থামুন তো আমি পারবোনা এগুলো করতে।
-মাহি আমার সত্যিই খুব খারাপ লাগছে। আমার মাথা গরম হয়ে গেলে কি করবো আমি কিন্তু নিজেও জানিনা। তাই ভালোভাবেই বলছি। যাও।
মাহিঃহুহ যাচ্ছি। টাওয়াল এনে আমি ওনার সব জায়গা মুছে দিলাম।
- কি রকম মানুষ একটু লজ্জা ও করেনা।
-ওটা আমার আগেও ছিলনা আর এখন তো আরও থাকার কথা না।
- ধুর। আমি মুছে দিয়ে উঠে যেতে গেলাম।
-মাহি আর একটু কষ্ট করো।আমাকে ধরে একটু শুইয়ে দাও নড়তে চড়তে ও কষ্ট হচ্ছে। দাওনা সোনা।
- মাগো এ আমি কার কাছে এসে পড়লাম। ওনাকে ধরে শুইয়ে দিলাম। তার কিছুক্ষণ পর আমি এসে শুয়ে পড়লাম।
আশফিঃ এতো তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লো? ওয়েট তোমার ঘুম আমি ছোটাচ্ছি।
-মাহি? এই মাহি? কি ঘুম কানেও শুনছেনা। মাহিইইইই......
মাহিঃ কি হয়েছে?(চমকে উঠে) এত রাতে এভাবে ষাঁড়ের মত চেচাচ্ছেন কেনো?
আশফিঃ চেচাবোনা তো কি করবো? আমার পিঠ টা একটু চেপে দাও খুব ব্যথা
করছে।ঘুম আসছেনা।
মাহিঃ উনি কি আসলেই মানুষ!!
ঘুমিয়েই তো পড়েছিলাম। এভাবে ঘুম থেকে ডেকে তুলে সেবা করাচ্ছে? আর সহ্য হচ্ছেনা। ধুর ছাই। কাছে গিয়ে পিঠ চেপে দিচ্ছি। থামতেও বলছেনা। কতক্ষন হয়ে গেলো। কি ব্যাপার কোনো সারা শব্দ নেই ঘুমিয়ে পড়লো নাকি? মুখটা ভালো করে দেখলাম। হুম ঘুমিয়ে পড়েছে। উফফ শান্তি পেলাম। আমিও এসে শুয়ে পড়লাম। ভাবছি এখন পর্যন্ত ও সেভাবে আমার কাছে আসার চেষ্টা করেনি। আমি তো ভেবেছিলাম বিয়ের পর থেকেই আমাকে........
যাক, তাহলে এতোটাও খারাপ না। এই একটা জিনিসই আমার একটু ভালো লাগলো।
আজকে সকালে আমাকেই নাস্তা বানাতে হবে। মা কাল রাতেই চলে গেছে।অনেক করে বলেছিলাম থাকতে। থাকলোনা। ওনাকে কি কি যেনো বলে তারপর চলে গেলো।রান্নাঘরের সেল্ফ গুলো এতো উঁচু কেনো? নিতেই তো পারছিনা কিছু।
আশফিঃ খাটো মানুষ হলে কি আর নাগাল পাওয়া যায়?
মাহিঃ পেছনে ঘুরে দেখলাম উনি মুখ চিপে হাসছে।
কে খাটো? আমি মোটেও খাটো না। আমার height যথেষ্ট পারফেক্ট।
আশফিঃ হ্যা। যেভাবে জাম্প দিচ্ছিলে তাতে তো বোঝাই যাচ্ছে কত লম্বা।
মাহিঃ হুহ। নিজে তো একটা জিরাফ। তাই সবাইকেই ছোটো ভাবেন।
আশফিঃ আমার গলা জিরাফের মত লম্বা না। আমি মানুষটা নিজেই অনেক লম্বা। আর লম্বা হওয়ার জন্য লাক থাকা লাগে। অবশ্য খাটো মেয়েরা বৌ হলে অনেক সুবিধা হয়।
মাহিঃ সুবিধা? কিসের সুবিধা?
আশফিঃ এইযে খুব সহজেই বুকের মধ্যে জড়িয়ে রাখা যায়।( মাহিকে টেনে নিয়ে বললো)। তারপর আদর করতেও খুব সুবিধা হয়।( মাহির ঠোঁটের কাছে ঠোঁট নিয়ে কিস করার সময়)
মাহিঃ আমি ওনাকে আস্তে করে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলাম।(কিস করার আগেই) সরুন তো। আর আমাকে জিনিসগুলো পেরে দিন।
আশফিঃ হায়!!! এখন আপনার রান্না করার সময় ও আমাকে হেল্প করতে হবে।আমার সেফ গুলো কত লম্বা ছিল।
মাহিঃ হ্যা তো ওদেরকেই বিয়েটা করতেন!! ইসস কি বলে ফেললাম।(জিহ্বায় কামড়ে ধরে) উনি রান্না করার জিনিস গুলো পেরে দিচ্ছিল আমার কথা শুনে পেছন ঘুরে রেগে তাকালো।
উনি কিছু বলার আগেই সামনে থেকে সরে গেলাম।
আশফিঃ কখন যে কি বলে মেয়েটা নিজেও জানেনা। পাগল একটা।নাস্তা করে কিছুক্ষণ পর রুমে আসলাম।আজকে অফিস যেতে হবে অনেক কাজ পরে আছে।বাথরুমে ঢুকবো গোসলের জন্য তখন দেখলাম মাহি মনের সুখে গান গাইছে আর গোসল করছে।
-মাহি তাড়াতাড়ি করো আমি গোসলে ঢুকবো অফিস যেতে হবে।
মাহিঃ বাড়িতে এতগুলো রুম থাকতে এই বাথরুমেই কেনো ঢুকতে হবে? অন্য বাথরুমে যান।
আশফিঃ আমি আমার রুমের বাথরুম ছেড়ে অন্য রুমে যাবো কেনো? আমি এখানেই ঢুকবো। দরজা খুলো।
মাহিঃ এই আপনি দেখতে পাচ্ছেন না আমি গোসল করছি?
আশফিঃ তো কি হয়েছে? আমি তোমার সাথেই করবো। খোলো বলছি।একটু জোড়ে ধাক্কা দিতেই দরজা খুলে গেলো। ছিটকিনি টা আস্তে করে লাগানো ছিল তাই খুলে গেলো। আর খুলেই যেটা দেখলাম,
-তুমি গোসল না করে এভাবে বসে আছো কেনো? তার মানে তুমি ইচ্ছে করেই আমার সাথে এগুলো করছিলে?আমাকে লেট করানোর জন্য?
মাহিঃ সরি সরি সরি আমার ভুল হয়ে গেছে আমি আর করবোনা আমি বেরিয়ে যাচ্ছি আপনি গোসল করুন।আমি বেরিয়ে যেতে গেলাম উনি আমার সামনে এসে দাড়ালো।
আশফিঃ বেরোতে হবেনা এতক্ষন গোসলের নাটক করছিলে এখন সত্যি সত্যি গোসল করবে আমার সাথে। আমি ওর দিকে যত আগাচ্ছি ও ততো পিছু হাঁটছে। তারপর ও একদম মিশে গেল দেওয়ালের সাথে। আমি যখনি দেওয়াল এক হাত দিয়ে ওকে আটকে ধরবো ও তখন আমার এক পাশ দিয়ে দৌঁড়ে চলে গেলো। হাহাহা আসলেই বাচ্চা।
মাহিঃ উহহ ওনাকে জালাতে গিয়ে আমি তো নিজেই ফেসে যাচ্ছিলাম। আমি রুমের বাইরে চলে আসলাম। ১৫ মিনিট এর মধ্যেই ওনার ডাক পড়ে গেছে।
-হুম বলুন।
আশফিঃ তোমাকে আমার ডাকতে হলো কেনো? আমি না তোমাকে বলেছিলাম আমি বাইরে যাওয়ার আগে তুমি আমার সামনে থাকবে আমি তোমাকে আদর করে বেরোবো। তাহলে তুমি আমার সামনে থাকলেনা কেনো? আমি তোমাকে ভালোভাবে বলেছিলাম তুমি শোনোনি। তুমি কি সবসময় এটা চাও আমি তোমাকে জোড় করে সবকিছু করি?
মাহিঃ হায় হায়!!ওনার এইসব রুলসের কথা তো আমার মাথায় ই নেই। আর এসব রুলস কি মেনে চলা যাই?
-আসলে আমার......
আশফিঃ একদম চুপ।আমার কাছে এসো।
মাহিঃ আমি ওনার কাছে গেলাম ভয়ে ভয়ে। উনি আমাকে আরও কাছে টেনে জড়িয়ে ধরে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। তবে চোখে রাগ নেই। তারপর উনি আমার কপালে গালে আদর করে দিল। আর সব শেষে ঠোঁটে। এখানে করার সময় উনি ওনার টাইম সেন্স একদম ভুলে যান। কতক্ষন যে এভাবে করছিল জানিনা। আর এদিকে আমার অসহ্য লাগছিল এভাবে থাকতে।
আশফিঃ অনেক্ষন ওকে আদর করে তারপর ছাড়লাম।
-নেক্সট যেনো এই ভুলটা আর না হয়। আসি।
মাহিঃ ওহ বাবা বাঁচলাম। আমি দিন দিন অধৈর্য্য হয়ে পরছি ওনার এইসব ব্যবহারে। কোনোভাবেই নিজেকে এভাবে মানাতে পারছিনা। আর সারাদিন এইভাবে ঘরে পড়ে থাকা সম্ভব না। কারণ আমার চিন্তা ভাবনা ছিল স্বাধীন জীবন। ঘর সংসার করবো সাজিয়ে গুছিয়ে এরকমটা আমি কখনো ভাবিইনি। বিশ্বাস জিনিসটা এতো সহজে আসতে চাইনা। আমাকে যা করার খুব তাড়াতাড়িই করতে হবে এভাবে আর থাকা সম্ভব না।
(দুপুরবেলা)
আশফিঃ মাহি? মাহি?
মাহিঃ কি ব্যাপার উনি আজ দুপুরবেলাই চলে আসলেন যে?
- এইতো। বলুন।
কি হলো চুপ করে আছেন যে।
আশফিঃ কিছুই হয়নি।
মাহিঃ তাহলে এভাবে ডাকলেন কেনো?
আশফিঃ এমনি। এসেই তোমার মুখ টা দেখবো তাই।
মাহিঃ অদ্ভুত মানুষ আপনি।
আশফিঃ তোমার কাছে তো এগুলো অদ্ভুত লাগবেই।
মাহিঃ আচ্ছা আপনাকে একটা কথা বলবো?
আশফিঃ এই তার আগে এই আপনি আপনি বলা বন্ধ করো তো। অসহ্য লাগে। তুমি বলবা। না হলে পানিশমেন্ট আছে।
মাহিঃ আচ্ছা ঠিক আছে ট্রাই করবো। এখন এটা বলুন I mean বলো তোমাকে যদি.......উফফ আনইজি লাগছে খুব তুমি করে বলতে নেক্সট টাইম থেকে ট্রাই করি? প্লিজ
আশফিঃ হুম।
মাহিঃ ঠিক আছে এখন কথাটা বলি। ধরুন আপনি অনেক চেষ্টা করার পরও আমি আপনাকে ভালোবাসতে পারলামনা বা আপনাে সাথে আর থাকতে চাচ্ছিনা। তখন আপনি কি করবেন???
কথাটি বলা শেষ করার আগেই উনি বসা অবস্থা থেকে উঠেই আমাকে টেনে ধরলেন।(রাগী লুকে)।আমি ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললাম। তারপর.........

মাহিঃ তারপর উনি আমাকে বললেন,
আশফিঃ তুমি যদি আমাকে ভালো নাও বাসো তাও আমি তোমাকে ছাড়বোনা আর যদি আমার সাথে থাকতে না চাও তাও তোমাকে যেতে দেবোনা। ক্লিয়ার??
এখন যাও আমাকে খেতে দাও।
মাহিঃ হুম।
তার মানে উনি নিজে থেকে কখনোই আমাকে ছাড়বেনা। বুঝেছি।
খাওয়া দাওয়া শেষ করে আমি বাগানে গিয়ে হেডফোনে গান শুনছিলাম। কিন্তু বাগানে আসার আসল উদ্দেশ্য হলো ঠিক কতগুলো গার্ড আছে সেটা দেখার।
আশফিঃ ও বসে হেডফোনে গান শুনছিল আমি গিয়ে ওর এক কান থেকে একটা হেডফোন নিয়ে আমার কানে দিলাম
মাহিঃ এটা কি হলো? আমি কখনো আমার হেডফোন কারো সাথে শেয়ার করিনা।
আশফিঃ পুরো লাইফ টাই আমার সাথে শেয়ার করতে হচ্ছে। আর তো হেডফোন। আচ্ছা ঘরে চলো।
মাহিঃ কেনো?
আশফিঃ দরকার আছে।তারপর আমি ওর হাত ধরে ঘরে নিয়েলাম।
-তুমি বসো আমি তোমার কোলে মাথা রাখবো। আর বাড়তি কোনো কথা বলবেনা। তারপর ও বাদ্ধ্য মেয়ের মত সেটাই করলো।
( পরেরদিন সকালবেলা )
আশফিঃ মাহি আমার জন্য এক কাপ কফি আনো। আর তুমি খেয়ে নিও আমি পরে খেয়ে নিব অফিসে গিয়ে। অনেকটা দেরি হয়ে গেছে। তুমি lunch টা রেডি করে আনো।
মাহিঃ হুম। আমি রান্নাঘরে গিয়ে ওদের ( সার্ভেন্টস)ভেতরে একজনকে বললাম কফি দিয়ে আসতে আর আমি একটা সার্ভন্টেসের সাথে কথা বলছিলাম আর ওনার lunch গোছাচ্ছিলাম।
আশফিঃ কফি তুমি নিয়েসেছো কেনো? ম্যাম কোথায়?
-ম্যাম তো রান্নাঘরে আছে।
আমি কফির মগটা নিচে ফেলে দিলাম।
মাহিঃ মনে হলো ঘর থেকে কিছু ভাঙ্গার আওয়াজ পেলাম। আমি তাড়াতাড়ি দৌঁড়ে গেলাম। দেখলাম নিচে কফির মগ টা পড়ে আছে ভাঙ্গা অবস্থায়। আমি কিছু না বলে ওনার দিকে তাকালাম। উনি খুব রেগে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। বুঝতে পারলামনা কিছুই।সার্ভেন্টটা ভয়ে মাথা নিচু করে চলে গেলো।
কিন্তু উনি এভাবে রেগে আছে কেনো?
আশফিঃ কফিটা আমি তোমাকে দিয়ে যেতে বলেছিলাম। তুমি কোন সাহসে সার্ভেন্টের হাত দিয়ে কফিটা পাঠিয়েছো??? বলো?? (চিৎকার করে)
মাহিঃ আমি তো আপনার lunch.........
আশফিঃ একদম চুপ। কফিটা আনতে খুব বেশি সময় অতিবাহিত হতোনা। আমি এত বার বলার পরও তুমি আমার কথা অগ্রাহ্য করো? তুমি জানোনা এগুলো করে তুমি কতোটা ভুল করছো।
মাহিঃ বেরিয়ে গেলো lunch টা নিয়ে। বুঝতে পারিনা এইটুকু বিষয়ে এতোটা রিয়েক্ট করার কি আছে? এগুলো উনি একটু বেশিই করছে, আমি আর এসব নিতে পারছিনা। আজকে দুপুরেই যা করার করতে হবে।
দুপুরে সাভের্ন্টস গুলো একটু রেস্ট নেই।At first আমি আসিফকে ফোন দিলাম। ওর সাথে কথা বললাম নতুন কোনো চাকরির খোঁজ দেওয়ার জন্য। ও আমার সাথে দুপুরে দেখা করতে চেয়েছে। lunch এ ও ছুটি নিয়ে বের হবে। চাকরিটা হয়ে গেলেই আমি এখান থেকে অন্য কোথাও চলে যাবো। আমি আসিফকে একটা রেস্টুরেন্ট এ আসতে বললাম। এখন কথা হচ্ছে আমি বেরোতে পারবো তো? আমার তো একা বাইরে যাওয়া নিষেধ। তাও আমাকে চেষ্টা করতে হবে। দুপুরবেলা স্বাভাবিক ভাবেই বাগানের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। তখন, পেছন থেকে দুজন গার্ড ডাক দিল
- ম্যাডাম?(গার্ড)
-কে? (চমকে গিয়ে)(মাহি)
-আপনি কোথায় যাচ্ছেন? আপনাকে তো একা যেতে দেওয়া নিষেধ।আমাদের বলুন আমরা আপনাকে নিয়ে যাচ্ছি।
- হ্যা তেমাদের স্যার lunch নিয়ে যাইনি তো তাই আমি যাচ্ছি এক সাথে lunch করো বলে। তোমাদের যেতে হবেনা আমি একাই যেতে পারবো।
- sorry mam. আপনার একা কোথাও যাওয়ার পারমিশন নেই। আর যেতে দিলে আমাদের চাকরি থাকবেনা।
-আমি তোমাতের বলছি তাও তোমরা শুনবেনা?
-ইয়েস ম্যাম, স্যারের অর্ডার।
-আচ্ছা তোমাদের স্যারকে আমি বলবো যে তোমরা আমাকে পৌঁছে দিয়েছো।তারপর আমি তোমাদের চলে যেতে বলেছি। ঠিক আছে?? এখন হবে তো? এখন আমাকে যেতে দাও।
-কিন্তু ম্যাম
মাহিঃকোনো কিন্তু নয়। যাও তোমরা। আর আমাকে বাঁধা দিওনা।
উহহ অনেক কষ্টে ম্যানেজ করলাম। তারপর রেস্টুরেন্টে গেলাম। গিয়ে দেখলাম আসিফ আমার আগেই চলে এসেছে।তারপর ওর সাথে অনেক্ষন কথাবার্তা বলে বাসায় ফিরলাম। ফিরতে ফিরতে বিকাল হয়ে গেছে। অফিস hour শেষ কিন্তু উনি এখন পর্যন্ত বাসায় আসেনি। সন্ধ্যা ৭ টা। হঠাৎ মনে হলো বাইরে ওনার গলার আওয়াজ পেলাম। কিন্তু উনি এভাবে চিৎকার চেঁচামেচি করছে কেনো? আমি বাইরে গেলাম। গিয়ে দেখলাম ঐ ২ টা গার্ডকে উনি বকাঝকা করে চাকরি থেকে বের করে দিল। আশ্চর্য!! উনি কি কিছু জানতে পেরেছে?? কিন্তু সেটা কিভাবে? উনি বাসার দিকেই আসছে আমি তাড়াতাড়ি রুমে চলে আসলাম। তারপর উনিও রুমে আসলেন। চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে সাংঘাতিক আকারে রেগে আছে। উনি কি কোনোভাবে আমার বিষয়টা জানতে পারলো? নাকি অন্য কোনো বিষয়ে? কিছুই তো বুঝতে পারছিনা। কিন্তু আমার বিষয়টা জানতে পারলে তো এতক্ষণে আমার অবস্থা খারাপ করে ফেলতো। ফ্রেশ হয়ে উনি রুমে সোফায় বসে আছে অনেক গম্ভীর হয়ে। ৮ টা বেজে গেছে আমি ওনাকে খেতে আসার জন্য ডাকতে এলাম। বার বার ডাকছি কিন্তু কোনো কথা বলছেনা তাই চলে আসতে গেলাম। তখন উনি আমার হাতটা ধরে টেনে এনে উঠে দাড়িয়ে আমাকে দেওয়ালের সাথে লাগিয়ে ধরলো।
আশফিঃ তুমি আমার অনেক ধৈর্য্যরে পরীক্ষা নিয়েছো আমার। আর আজকে আমার ধৈর্য্যের বাঁধ একেবারে ভেঙ্গে গেছে। তুমি ভাঙ্গতে বাদ্ধ্য করেছো।তুমি এখন কল্পনাও করতে পারবেনা আজকে আমি তোমার সাথে কি করবো। কথাগুলো বলেই ওকে বিছানায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলাম। তারপর ওর কাছে এগিয়ে আসলাম আর ও পিছু সরছে।
মাহিঃ কি করতে চাইছেন আপনি? এভাবে আমার দিকে এগিয়ে আসছেন কেনো? দেখুন আমি কিন্তু এগুলোর জন্য একদম প্রস্তুত না। তারপর উনি আমার অনেক কাছে আসার চেষ্টা করছে আমি ওনাকে বাঁধা দিচ্ছি কিন্তু পারছিনা।
-প্লিজ আমার সাথে এরকম করবেন না, আমাকে ছাড়ুন। এরপর আমি শুধু কান্নাই করছি ওনাকে কোনোভাবেই আটকাতে পারিনি তাই আর বাঁধা দেওয়ার চেষ্টাও করছিনা।
আশফিঃ রাত ১:৩০ টা বাজে। ও বসে কাঁদছে। আমি কোনো কথা বলছিনা ওর সাথে। রাতে ডিনার ও করা হয়নি আমাদের। আমার খেতেও ইচ্ছে করছেনা। আর ওকে ও বলছিনা খেতে। কিন্তু ওর শারীরিক condition চিন্তা করে ওর জন্য খাবার আনতে গেলাম। ওকে খাইয়ে দেওয়ার জন্য সামনে বসলাম।
-মাহি, হা করো। কি হলো? আমি তোমাকে হা করতে বলছি তো। বার বার বলছি শুনছেনা। কেঁদেই চলেছে। খাবারের প্লেট রেখে আমি উঠে গিয়ে ঘরের ভেতর ভাঙচুর শুরু করলাম।
মাহিঃ কি করছেন কি আপনি? এভাবে ভাঙচুর করছেন কেনো? থামুন। থামুন বলছি। উনি আমার কোনো কথায় শুনছেনা।
-আশফি প্লিজ থামুন।কেঁদে বললাম। তারপর উনি থামলেন।
আশফিঃ তুমি তো এটাই চাও আমি সবসময় অশান্তি করি। আমাকে শাস্তি দিতে চাও তাইনা? আর কতো? আর কতো শাস্তি পাবো আমি বলো?
কথাগুলো শুনে ও একদম চুপ করে রইলো। তারপর আমি নিজেকে কনট্রোল করে ওর কাছে গেলাম। ওর সামনে বসে চোখটা মুছে দিলাম। খাবারের প্লেট টা আবার হাতে নিয়ে ওকে খাওয়ানো শুরু করলাম। এখন ও চুপচাপ খাচ্ছে কোনো কথা বলছেনা। খাওয়ানো শেষ করে ওকে শুইয়ে দিলাম। এরপর আমি ওর পাশে গিয়ে শুয়ে পড়লাম। ও দূরে সরে ছিলো ওকে কাছে টেনে জড়িয়ে ধরলাম তারপর ওর কপালে একটা চুমু দিলাম। কিছুক্ষণ পর ওকে কিছু কথা বললাম,
-মাহি?? তুমি কি আমাকে বোকা ভেবেছিলে?
কথাটা শুনে ও আমার মুখের দিকে তাকালো। আমি ওর দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলা শুরু করলাম।
- কি ভেবেছিলে তুমি কিছু করলে সেগুলো আমি জানতে পারবোনা? তোমার এতদিনে বোঝা উচিত ছিল আমার পাওয়ার কতটুকু। তুমি এই বাড়িতে কখন কোথায় কি করো তা আমি সবসময় দেখতে পাই। এমনকি বাইরে কোথাও গেলে সেই ইনফরমেশন ও আমি পাই। কি অবাক হচ্ছো? তাহলে শোনো বিয়ের পর দিন থেকেই তোমার বেশ কিছু বিহেভিয়ারে আমার খুব রাগ হচ্ছিল তাও নিজেকে অনেক কন্ট্রোল করে রেখেছি। সেদিন আমি সকালে অফিসে যাওয়ার আগে তোমার ঠোঁটে চুমু দিয়ে গেছিলাম। গাড়িতে বসে যখন ফোনটা হাতে নিলাম তুমি কি করছো সেটা দেখার জন্য। তখন দেখলাম তুমি ওয়াশরুমে গিয়ে ঠোঁটটা ধুয়ে ফেলছো। আর এটা তুমি একবার না বারবার করেছো যতবার আমি তোমাকে কিস করেছি। এতক্ষনে নিশ্চই বুঝতে পেরেছো এগুলো কিভাবে দেখতে পাই। হ্যা পুরো বাড়িতে সিসি ক্যামেরা ফিট করা। 2nd time রাগ হয়েছিল সেদিন পার্টিতে, কারণ তুমি আমার বারণ করা সত্তেও আসিফের সাথে কথা বলছিলে হাসাহাসি করছিলে।সেখানেও চুপ ছিলাম। 3rd time রাগ হয়েছে সকালে যখন তুমি কফিটা আনোনি। তখন নিজেকে কন্ট্রোল করার জন্য বাসা থেকে বেরিয়ে গেলাম। আর আজ দুপুরে যে কাজটা করেছো সেটার পর আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিনি যখন দেখলাম তুমি আসিফের সাথে ফোনে কথা বলছো তাও আবার আমার কাছ থেকে পালানোর জন্য তখন আমার মাথা খারাপ হয়ে গেলো। আর তার ওপর তোমার বাইরে একা বের হওয়া বারণ, সেগুলো জেনেও তুমি গার্ড গুলোকে সাথে নাওনি। তখন আমি অন্য দুজন বডিগার্ড পাঠালাম তোমার সিকিউরিটির জন্য তবে ওদেরকে আমি তোমার সামনে যেতে নিষেধ করেছিলাম। তারপর সন্ধ্যায় বাসায় এসে ঐ অপদার্থ দুটো গার্ডকে চাকরি থেকে বের করে দিলাম। এখন এটা বুঝতে পেরেছো তো তুমি চাইলেও আমার থেকে পালাতে পারবেনা। আর কেনো তুমি পালাতে চাও বলোতো, আমি কি তোমাকে কম ভালোবাসি? আচ্ছা থাক এখন আর কোনো কথা বলতে হবেনা। ঘুমোও তুমি। আর হ্যা শোনো তোমার ফোনটাও কিন্তু ট্র্যাপ করা। এটা শুনে ও আর একটু অবাক হলো।
ঘুম থেকে খুব সকাল সকাল উঠলো মাহি, উঠে গোসল করে আমার সবকিছু বলার আগেই করে দিচ্ছে কিন্তু কোনো কথা বলছেনা আমার সাথে। ও আমাকে কফি দিয়ে যখন চলে যাচ্ছিল তখন আমি ওকে পেছর থেকে গিয়ে জড়িয়ে ধরলাম। তারপর ওকে বললাম,
-মাহি I'm sorry. কালকে তোমাকে ঐভাবে টর্চার করা উচিত হয়নি আমার। আমি সত্যিই তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনা। বিশ্বাস করো। আর শোনো(ওকে সামনে ঘুরিয়ে বললাম)আজকে থেকে তুমি অফিসে জয়েন করছো তবে আমার পি.এ. হয়েই। এবার এই কথা শুনে ও মুখ খুললো।
মাহিঃ কি? আপনি কি পাগল? আমি আপনার বৌ হয়ে আপনার অফিসেই আপনার পি.এ. হয়ে কাজ করবো? সবাই ভাববে কি আপনার লজ্জা লাগবেনা? আমার তো এখন ভেবেই লজ্জা লাগছে।
আশফিঃ কি আর করবো বলো এটা তুমি করতেই বাদ্ধ্য করেছো।কারণ যে কোনো সময় তুমি পালানোর চেষ্টা করতে পারো। তাই তোমাকে সবসময় আমার সাথে রাখার জন্য এটা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। এখন যাও জলদি রেডি হয়ে নাও।
মাহিঃ এই দিনও দেখার বাকি ছিল? রেডি হয়ে ওনার সাথে অফিসে গেলাম। সবাই তো আমাকে এভাবে দেখে অবাক। সবাই কানাকানি করছে। করাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আসিফকে চোখে পড়লোনা। তার মানে বেচারার চাকরি গেছে। আহরে আমার জন্য ওর চাকরিটা ও গেলো। ওনার P.A. হয়ে থাকলেও বেশিরভাগ সময় আমাকে ওনার চেম্বারেই কাটাতে হয়। আমার চেম্বার খালিই পড়ে থাকে। আর যখন তখন কি সব আবদার করে। যে কোনো সময় কিস করে বসে, জড়িয়ে ধরেই দুষ্টুমি শুরু করে দেই।এরকমই একদিন দুপুরে lunch এর সময় আমি ওনার খাবার রেডি করছি,
আশফিঃ মাহি? বাটম গুলো খুলো।( ফোনের দিকে তাকিয়ে)
মাহিঃ কি?
আশফিঃ তোমার শার্টের বাটম গুলো খুলো।
মাহিঃ এই আপনি কি পাগল হয়ে গেলেন নাকি। এখানে আপনি কি করতে চাচ্ছেন?
আশফিঃ উফফ তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হয়না। ( উঠে দাড়িয়ে) সবসময় খালি বেশি কথা বলো। আমি ওর দিকে যত এগোচ্ছি ও ততো পিছিয়ে যাচ্ছে।
মাহিঃ আশফি প্লিজ থামুন কি করছেন কি? যে কোনো সময় কেউ চলে আসতে পারে।
আশফিঃ এখন কেউ আসবেনা। ও পিছিয়ে যাওয়ার সময় ওকে টেনে জড়িয়ে ধরে ওর শার্টের দুটো বাটম খুললাম। তারপর ওর লাল তিলটাই একটা কিস করে দিলাম। ও তখন চোখ বন্ধ করে ছিল। আমি ওর ঠোঁট জোড়াতে ও অনেক্ষন কিস করলাম। কিস করে আমি ওর দিকে তাকিয়ে আছি। ও তারপর চোখ খুললো। আমি তখন ওর দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিলাম। ও খুব লজ্জা পেয়েছে। লজ্জা পেলে নাকি মেয়েদের খুব সুন্দর দেখায় আর আজকে তার প্রমাণ পেলাম।
- হয়েছে অনেক লজ্জা পেয়েছেন। এবার আসুন lunch করতে হবে। এভাবেই সময় গুলো কাটছিল ওর সাথে।
( Friday)
আশফিঃ মাহি আজকে বিকেলে চলো তোমাকে নিয়ে কোথাও ঘুরে আসি। ও তখন কম্বল গায়ে দিয়ে শুয়ে আছে।
- আরে তুমি এই গরম কালে কম্বল গায়ে দিয়ে শুয়ে আছো যে।
মাহিঃ শীত করছে খুব। তাই।
আশফিঃ তার মানে? জ্বর লেগেছে নাকি? আমি ওর কপালে হাত দিয়ে দেখলাম সত্যি গা গরম জ্বর লেগে গেছে। আমি ওকে ওষুধ খাইয়ে দিয়ে রেস্ট নিতে বললাম।
মাহিঃ এখন একটু সুস্থ লাগছে। মাথা যন্ত্রণা টাও কমেছে। বিছানা থেকে উঠে জানালার কাছে গিয়ে দাড়িয়ে বাগানটা দেখছিলাম। তারপর যা দেখলাম সেটা দেখে আমার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠলো। সেদিন আমাকে যে ৩ জন তুলে নিয়ে গেছিল সেই ৩ টা ছেলে বাগানের ভেতর দিয়ে বাসার ভেতর ঢুকছে। আমি তাড়াতাড়ি দৌড়ে রুমের বাইরে গেলাম। ওপরে দাড়িয়ে দেখলাম আশফি ওদের সাথে কথা বলছে।
আশফিঃ কেমন আছো তোমরা? আসলে ওকে নিয়ে এই তিন মাস খুব বিজি ছিলাম তাই তোমাদের সাথে যোগাযোগ করিনি আর তোমরা ও আমার সাথে কোনো যোগাোযোগ করোনি।
- আমরা বুঝতে পেরেছি ভাইয়া তাই আমরা কেউ আপনার সাথে যোগাোযোগ করিনি।
আশফিঃ হুম। আমি জানি তোমরা কেউ এগুলো পেশাগত ভাবে করোনা। তাও আমার জন্য কাজটা করেছিলে তার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
- হ্যা ভাইয়া আমরা জানি যে আপনি ওনাকে কিছু করতেন না তাই কাজটা করেছিলাম।
আশফিঃ আর তার জন্য আমি তোমাদেরকে টাকা দিয়ে ছোটো করবোনা। তোমরা তো পড়ালেখা শেষ করেছো। তাই তোমাদের জন্য আমি চাকরি ঠিক করেছি আমার কোম্পানিতে। কাল থেকেই তোমরা জয়েন করবে।
-অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া। অনেক বড় উপকার করলেন আমাদের। এখন তাহলে আমরা আসি।
আশফিঃ হ্যা যাও। কথা বলা শেষ করেই পেছনে ঘুরলাম রুমে যাবো বলে। ঘুরেই দেখলাম মাহি ড্রয়িং রুমে দাড়িয়ে আমাদের সব কথা শুনেছে।

আশফিঃ ঘুরেই দেখলাম মাহি ড্রয়িংরুমে দাড়িয়ে আমাদের সব কথা শুনেছে। কিন্তু ওর চোখে তো কোনো বিস্ময় বা রাগ কিছুই দেখছিনা।
- মাহি তুমি উঠে এসেছো কেনো? তুমি কি এখন সুস্থবোধ করছো?
মাহিঃ একটু আগেও খানিক টা অসুস্থ ছিলাম এখন এই মূহুর্তে পুরোপুরি সুস্থবোধ করছি।
আশফিঃ (নিশ্চুপ)
মাহিঃ আশফি তোমার একটা জিনিস আমাকে ভিষণ মুগ্ধ করেছে। এতো বড় একটা অপকর্মের এতো সুন্দর একটা পুরষ্কার দিলে ওদের আমি সত্যিই ইমপ্রেসড। কি অবাক হচ্ছো হঠাৎ আপনি থেকে তুমি তে চলে আসলাম। আসলে আপনি করে সম্বোধন করলে সম্মান অনেক বেশি দেওয়া হয়ে যায়। আর তুমি এতোটাই নিকৃষ্ট যে তোমাকে তুমি করেও সম্বোধন করা উচিত না। কিন্তু আমি এর থেকে আর নিচে নামতে পারছিনা। Revenge!! Revenge নিয়েছো না?? Good job. (স্বাভাবিক কন্ঠে বলছিল)
- ডাইনিং টেবিলে একটা ছুরি দেখতে পেলাম দৌড়ে গিয়ে সেটা নিয়ে এসে ওর কলার চেপে গলায় ছুরিটা ঠেকিয়ে ধরলাম।
কি ভেবেছিলে তুমি আশফি এগুলো আমি কোনো দিনও জানতে পারবোনা? তোমাকে তো খুন করলেও আমার শান্তি হবেনা। এগুলোর পরেও আমি বিশ্বাস করবো তুমি আমাকে ভালোবাসো? এটাকে কি ভালোবাসা বলে?
আমি ওর গলায় অনেক শক্ত করে ছুরিটা ধরে ছিলাম তাতে ওর গলার এক পাশ কেটে রক্ত পড়ছে কিন্তু তা দেখে আমার একটু ও মায়া হচ্ছেনা। ও একদম স্বাভাবিকভাবে দাড়িয়ে আছে শুধু চোখ থেকে পানি পড়ছে। আমি ওর চোখ থেকে এক ফোটা পানি আঙ্গুলে ধরে ওকে বললাম,
-এগুলো কি সত্যি চোখের পানি? নাহ্ এটাও নকল।
আশফিঃ মাহি তুমি আমাকে যা খুশি করো যা খুশি বলো আমার ভালোবাসা তোমার কাছে নাটক অভিনয় পাগলামি যাই মনে হোক কিন্তু আমাকে তুমি ছেড়ে যেওনা। আজকের পর থেকে আমি তোমাকে আর কোনো কিছুতেই জোড় করবোনা আমি তোমাকে তোমার মত করে থাকতে দেবো তবুও আমাকে ছেড়ে যেওনা। আমাকে তুমি যা করতে বলবে আমি তাই করবো তবুও আমাকে ছেড়ে তুমি যেওনা মাহি, প্লিজ। কথাগুলো আমি ওকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে বলছিলাম।
মাহিঃ ওকে ধাক্কা দিয়ে আমি সরিয়ে দিলাম। তারপর ছুরিটা আমি নিচে ছুড়ে ফেলে দিলাম। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললাম,
- ঠিক আছে আমি আমার planing change করলাম। তোমাকে খুন করলে আমার সম্মান ফিরে আসবেনা। আমি তোমাকে এখন যেটা করতে বলবো সেটা যদি করতে পারো তাহলে আমি ভেবে দেখবো।
আশফিঃ কি করতে হবে বলো তুমি যা বলবে আমি তাই করবো। কিন্তু প্লিজ আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা তুমি ভেবোনা।
মাহিঃ আজকে সন্ধ্যার ভেতরে একটা পার্টির arrangement করতে হবে। আর সেখানে তোমার সমস্ত অফিস কলিগ, স্টাফ আমার এলাকার কিছু পড়শি সবাইকে ইনভাইট করতে হবে। আর হ্যা মিডিয়াপ্লেক্স ও থাকবে। তারপর তুমি সবার সামনে স্বীকার করবে আমার সাথে যা যা করেছো সব। কি? পারবে তো?
আশফিঃ ( নিশ্চুপ)
মাহিঃ কি হলো চুপ কেনো? আমি জানতাম মি. আশফি চৌধুরীর সম্মান আর জেদ এর কাছে ভালোবাসা মূল্যহীন।
আশফিঃ না। আমার কাছে তোমার থেকে কোনো কিছুর মূল্য বেশিনা। এটা করলে তুমি যদি আমাকে মাফ করে দাও আমার কাছে ফিরে আসো তাহলে আমি সেটাই করবো। আমি আজকেই সবকিছুর ব্যবস্থা করছি।
★ সন্ধ্যাবেলা★
মাঃ কিরে আজকে হঠাৎ কিসের জন্য পার্টির arrangement করেছে আশফি। আর এত লোকজন কেনে?
মাহিঃ একটু অপেক্ষা করো দেখতে পাবে। আজকে আমি নিজে থেকেই খুব সুন্দর করে সেজেছি। কারণ আজকে আমার খুশির দিন আর ওর বিষাদময় দিন। সবাই চলে এসেছে। আমি ওর কাছে গিয়ে ওর হাতটা ধরে সবার মাঝে এসে দাড়ালাম। ও আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললাম,
- Good evenig everyone. আজকে আমার অনেক বিশেষ একটা দিন। তাই আমার হাজবেন্ড আপনাদের সাথে আমার আর ওর বিশেষ কিছু কথা শেয়ার করবে, আপনারা মনোযোগ সহকারে শুনুন। ডিয়ার শুরু করো। এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছো কেনো সবাই অপেক্ষা করছে তো। বলো!!
তারপর ও কথাগুলো বলা শুরু করলো। কথা বলার সময় ওর গলা কাঁপছিল। আর সবাই ওর দিকে অবাক চোখে চেয়ে সেই কথাগুলো শুনছিল। আজকে আমি সত্যি অনেক খুশি । প্রতিশোধের বদলে প্রতিশোধ। কথাগুলো বলা শেষ করেই ও আমার দিকে তাকালো। চোখ দুটোতে পানি ছলছল করছিল। কিন্তু আমার চোখে ওর জন্য শুধু ছিল ঘৃণা। আমি ওর থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে মিডিয়ার উদ্দেশ্যে বললাম আজকের ঘটনা যেনো প্রতিটা নিউজ চ্যানেলে ব্রেকিং নিউজ হয়ে বের হয়। কথাগুলো বলেই আমি রুমে এসেই কাপড়-চোপড় গোছানো শুরু করলাম। মা আর ও আমার পিছু পিছু চলে আসলো।
আশফিঃ মাহি তুমি এগুলো কি করছো? তুমি তো বলেছিলে আমি তোমার কথা শুনলে তুমি আমাকে ছেড়ে যাবেনা আমি তো সেটাই করেছি। তাহলে তুমি এগুলো কেনো করছো? এই মাহি আমার কথা শুনো প্লিজ। মামনি ওকে বোঝাও। ( আশফি মাহিকে আটকানোর চেষ্টা করছিল আর কথাগুলো বলছিল)
মাঃ মাহি তুই থাম। তুই কিন্তু বাড়াবাড়ি করছিস। তুই ওকে যা করতে বলেছিস ও সেটাই করেছে। এখন ওকে ক্ষমা করে দে।
মাহিঃ মা তুমি চুপ করো। ও যেটা করেছে তার কোনো ক্ষমা হয়না।
মাঃ কেনো ক্ষমা হয়না। ও তোর সম্মান নষ্ট করেছিল। তা আজ তোকে ও ফিরিয়ে দিয়েছে। ও সবার সামনে ওর অপরাধ স্বীকার করছে। তোর কাছে ও মাফ চেয়েছে। এখন তো ওর সম্মান ও সবার সামনে নষ্ট হয়ে গেছে। একটু পর টিভি চ্যানেলে আজকের ঘটনা ফ্লাশ হবে। শেষ হওয়ার আর কি বাকি আছে ওর।
আশফিঃ মাহি তোমার দোহাই লাগে আমাকে এত বড় শাস্তি দিওনা। আমি থাকতে পারবোনা তোমাকে ছাড়া। মরেই যাবো আমি। (জড়িয়ে ধরে কেঁদে বলছিল)
মাহিঃ ছাড়ো আমাকে(ধাক্কা দিয়ে) একদম আমার কাছে আসার চেষ্টা করবেনা। তুমি মরে গেলেও আমার আর কিচ্ছু যায় আসেনা। আমার চোখের সামনে থেকে চলে যাও।
আশফিঃ কথাগুলো বলার পর ও মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছিল। আমি ওকে দৌড়ে ধরতে গেলাম।
মাহিঃ Don't. Don't touch me. মা ওকে আমার সামনে থেকে চলে যেতে বলো। আমি ওকে সহ্য করতে পারছিনা। আমি বসে বসে কাঁদছি। আর মনে মনে ভাবছি যে এই লোকটার ওপর কয়েক ঘণ্টা আগেও একটা টান ছিল। আর এখন তাকে আমি আর সহ্য করতে পারছিনা। পারছিনা আর সহ্য করতে।
আশফিঃ মাহি তুমি সত্যি আর আমার কাছে ফিরে আসবেনা, আমি মরে গেলেও তোমার কিছু যায় আসেনা তাইনা? আমাকে তুমি আর একদম সহ্য করতে পারছোনা। ঠিক আছে আমি আর তোমার সামনে আসবোনা। তোমাকে কষ্ট দেবোনা।
(কথাগুলো পাথরের মত দাড়িয়ে স্বাভাবিক কন্ঠে বলছিল)
-তুমি যেতে পারো।
মাহিঃ মা চলো এখোনি। আমি মায়ের হাত ধরে ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম।
মাঃ মাহি দাড়া তুই আমার কথা শোন। এরকম কষ্ট ছেলে টাকে দিসনা।
মাহিঃ মা তুমি আর একটা কথাও বলবেনা। কিসের এতো টান তোমার ওর জন্য? কথা গুলোর মাঝেই হঠাৎ ওপর থেকে গুলির আওয়াজ আসলো। তখন আমরা ড্রয়িংরুমে। আওয়াজ টা শুনেই আমি দাড়িয়ে গেলাম।
মাঃ ওপর থেকে গুলির শব্দ শোনা গেলো। মাহি ও কি কিছু করে ফেললো?
মাহিঃ মা আমার হাত ছেড়ে দৌড়ে ওপরে গেলো। যাওয়ার পরই মা চিৎকার করে উঠলো। আমি আর কিছু না ভেবেই ওপরে ছুটে গেলাম। গিয়ে দেখলাম রক্তে ফ্লোর ভেসে যাচ্ছে। ও ওর পেটে নিজেই shoot করেছে। এত রক্ত আমি আগে কখনো দেখিনি।
ওর এই অবস্থা দেখে আমি আর নিজেকে সামলাতে পারিনি। কিছুক্ষণ পর দেখলাম আমি ফ্লোরে পড়ে আছি। আমি sense হারিয়ে ছিলাম। কিন্তু চারপাশে তাকিয়ে দেখলাম কেউ নেই।তার মানে ওকে hospital নিয়ে গেছে। আর আমি ওর রক্তের পাশেই বসে আছি। প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলাম কিন্তু সেটা ওর জীবনের বিনিময়ে নয়। আজকে তো আমি নিজেই অনেক বড় অপরাধী হয়ে গেলাম। ওকে কি আমার ক্ষমা করা উচিত ছিল? হ্যা আমার ক্ষমা করা উচিত ছিল ওকে। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে ফোন বেজে উঠলো। আমি ফোন রিসিভ করলাম। মা ফোন করেছে।
মাঃ কিরে খুব শান্তি পেয়েছিস? তুই এরকম নিষ্ঠুর হয়ে গেলি কবে থেকে মাহি? তুই কি ওকে একটাবার ক্ষমা করতে পারতিনা? আজকে আমরা বেঁচে আছি যে আশরাফ ভাইয়ের জন্য আর তুই আজকে তার ছেলেকেই.............. হ্যা মানলাম ও যেটা করেছিল সেটা ওর অনেক বড় ভুল ছিল। তার জন্য তুই যা বলেছিস ও তাই করেছে। কিন্তু তুই কি করলি? এখন ও কি তোর মনে হয় ওর ভালোবাসা শুধু দুইদিনের জন্য ছিল? আজকে যদি ওর কিছু হয়ে যায় তাহলে আমি তোকে কোনোদিনও মাফ করবোনা মাহি, কোনোদিনও না।
মাহিঃ কথাগুলো মা এক নিঃশ্বাসে বলে ফোনটা কেটে দিল। এখন তো আমার চারপাশ শুধু অন্ধকার লাগছে। আমি কল্পনা করতে পারিনি ও এরকম কিছু করবে। আমি বসে বসে ওর সাথে আমার খারাপ ভালো স্মৃতিগুলো মনে করছি। আমাকে পাওয়ার পদ্ধতি ওর ভুল ছিল। কিন্তু ওর ভালোবাসা মিথ্যে ছিলনা। আমার সাথে ও যাই করেছে শুধুমাত্র আমাকে ওর কাছে রাখার জন্য করেছে। এখন আমার কি করা উচিত? কি করবো আমি? হে খোদা এত বড় শাস্তি তুমি আমাকে দিওনা। দিওনা এত বড় শাস্তি(কান্না কন্ঠে)। একমাত্র তুমিই পারো ওকে বাঁচাতে। আমি উঠে গিয়ে ওযু করে নামায পড়তে বসলাম। নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে ওর জন্য মোনাজাত শুরু করলাম। হে আল্লাহ্ তোমার কাছে ছাড়া আমি আর কার কাছে চাইবো? তুমি তো সব দেখছো একমাত্র তোমারই ক্ষমতা আছে তোমার বান্দাকে বাঁচিয়ে তোলার। তুমিই পারো ওকে বাঁচাতে। এই পৃথিবীর কোনো কিছুই তোমার ইশারা ছাড়া চলেনা। তাহলে তুমি ওকে আমার থেকে ছিনিয়ে নিওনা। একটাবার সুযোগ দাও ওর সঙ্গে বেঁচে থাকার। শুধু একটাবার সুযোগ দাও আমাকে। এভাবে অনেক্ষন কান্নাকাটি করে মোনাজাত করেছি। তারপর কখন জায়নামাজ এর ওপরেই ঘুমিয়ে পড়েছি তা জানিনা।
চাচ্চুঃ ভাবি মাহি আসেনি?
মাঃ নাহ্। আমি আমার এই মাহিকে চিনতে পারছিনা। ও এতোটা নির্দয়ালু কবে থেকে হলো জানিনা।
চাচ্চুঃ মেয়েটা ওকে বুঝতে পারলোনা।শুধু ওর ভুল আর ওর রাগ টাই দেখলো। ছেলেটা সবকিছু হারিয়ে শুধু ওকে পাওয়ার জন্য এখানে চলে এলো?
মাঃ সবকিছু হারিয়ে মানে?
( কথাগুলো শোনার আগেই ডঃ বেরিয়ে এলো O.T থেকে।
চাচ্চুঃ ডঃ আশফি এখন কেমন আছে ও ঠিক আছে তো?
ডঃ হ্যা danger টা কেটে গেছে। গুলিটা পেটের এক পাশ থেকে বেরিয়ে গেছিল। তাই এই যাত্রায উনি বেঁচে গেছে। আপনারা সকাল হলে ওর কেবিনে যেতে পারবেন। এখন না।
মাঃ হায় আল্লাহ্ তোমার দরবারে লাখ লাখ শুকরিয়া।
★সকালবেলা★
মাঃ আরমান ভাই আশফি চোখ খুলেছে ওর sense ফিরেছে।
আশফি? বাবা তোর কেমন লাগছে?
আশফিঃ আমি চোখ টা খুলেই মামনিকে দেখলাম। তারপর চারপাশে তাকালাম।
-মামনি, ও আসেনি তাইনা?
মাঃ চুপ থেকে বললো ওর কথা বাদ দে। তুই এখন বল কেমন লাগছে তোর?
চাচ্চুঃ বাবা তোর এখন কেমন লাগছে?
আশফিঃ তোমরা সবাই এখানে? ওকে কোথায় রেখে এসেছো? ও কোথায়? তোমরা ওকে একা রেখে কিভাবে চলে এলে? চাচ্চু তুমি তো জানো ওর লাইফ রিস্ক কতোটা? তারপরেও তুমি কিভাবে ওকে একা রেখে চলে এলে?
চাচ্চুঃ আশফি বেটা তুই একদম চিন্তা করিসনা। ওখানে আমি ওর নিরাপত্তার সব ব্যবস্থা করে রেখেছি।তুই এতো টেনশন নিসনা অসুস্থ হয়ে পড়বি।
আশফিঃ এখানে বসে থাকলে আমি অসুস্থ হয়ে পড়বো। তুমি এক্ষণি আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করো। না হলে আমি নিজেই চলে যাবো এখান থেকে।
মামনিঃ বাবা তুই শান্ত হ। এই অবস্থায় তোকে কিভাবে ছাড়বে বল।
আশফিঃ মামনি আমি একদম ঠিক আছি। এখানে থাকতে আমার একটুও ভালো লাগছেনা।
চাচ্চুঃ আচ্ছা তুই শান্ত হ আমি দেখছি। আমি ডঃ এর সাথে কথা বলে বাসায় নার্সিং এর ব্যবস্থা করছি।
মাহিঃ ঘুম ভাঙ্গলো মুখে রোদের আলো পড়ে। জানালা দিয়ে আলো এসে পড়েছে। আমি তাড়াতাড়ি উঠে বসলাম। আমি এভাবে ঘুমিয়ে আছি? আমার তো hospital যাওয়া দরকার। আমি উঠে তাড়াহুড়ো করে নিচে নেমে এলাম। মনে হলো বাইরে গাড়ি থামলো। আমি দৌড়ে গেলাম দেখলাম ওকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে। ওকে দেখে আমি খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলাম। ওকে ধরে যখন বাসার ভেতর আনছিল তখন ও আমার দিকে একবারও তাকালোনা।আর কেউ আমার সাথে কোনো কথাও বলছেনা। আমি ওপরে গেলাম ওর রুমে। দেখলাম দুটো নার্স ওকে ধরে শুইয়ে দিল। তারপর সবাইকে বললো
- এখন আপনারা সবাই বাইরে যান ওনার ঘুমের প্রয়োজন। (নার্স)
মাহিঃ আমি বাইরে চলে আসলাম। আমি মায়ের সাথে কথা বলতে গেলাম মা আমাকে এড়িয়ে চলে গেলো। আমি বার বার ওর রুমে উঁকি দিচ্ছি। ও ঘুমোচ্ছে। আমি ওর রুমে ঢুকে ওর কাছে যেতে গেলাম। একটা নার্স তখন বললো,
-ম্যাম উনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ না। আর ওনার কাছে এখন কেউ থাকতে পারবেনা তাতে ওনার জার্ম প্রবলেম হতে পারে। আপনি প্লিজ এখন বাইরে যান। আমার তখন নার্সটার ওপর খুব রাগ হচ্ছিল। আমাকে ওর কাছে এলাও করছেনা? কিছু বলতে গিয়ে না বলে বেরিয়ে এলাম। মা তখন রুমের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল আমাকে দেখে রেগে গেল,
মাঃ তুই এখানে কি করছিস?
মাহিঃ মা??
মাঃ একদম চুপ। আগেই যখন তোর ভুলটা বুঝতে পারিসনি এখন ওর একটা ক্ষতি হয়ে যাওয়ার পর সেই ভুল ভাঙ্গার কোনো মানেই হয়না।
মাহিঃ আমি মায়ের কথা শুনে আর কিছু বলতে পারলামনা। চলে এলাম কাঁদতে কাঁদতে।
রাত ৯ টা বাজে আমি একবার ওর রুমে যেতে চাইলাম। রুমের সামনে গিয়ে ওদের কথা শুনে বাইরে দাড়িয়ে গেলাম। মা আশফি আর চাচ্চু কথা বলছে। ওর এই কথাগুলোই বলছিল আশফি কিছুদিন পরই জাপান ফিরে যাবে। আর সাথে মাকে ও নিয়ে যাবে। মা আমার সাথে আর থাকতে চাইনা। আর এখানে আশফির যা কিছু আছে সেগুলো আমার নামে লিখে দিয়ে যাবে।
আমি এই কথাগুলো শুনে সেখানে আর দাড়িয়ে থাকতে পারলামনা।অন্য ঘরে দৌঁড়ে চলে আসলাম।
মাঃ আশফি? বাবা তুই কিছু খেয়ে নে এখন তো তোর খালি পেটে থাকা উচিত না। অসুস্থ হয়ে পড়বি।
আশফিঃ মামনি আমার কিচ্ছু হবেনা। আর খালি পেটে কোথায় সন্ধ্যার সময়ই তো খেয়েছি। তোমরা এখন যাও গিয়ে রেস্ট নাও। অনেক কষ্ট করেছো। এখন গিয়ে ঘুমাও।
মাহিঃ আমি এত বড় শাস্তি পাবো সেটা কখনও ভাবিনি। ওরা আমাকে ছেড়ে চলে গেলে আমি ওদের ছাড়া কিভাবে থাকবো। আশফি প্লিজ আমাকে এত বড় শাস্তি দিওনা। আমি থাকতে পারবোনা তোমাদের ছাড়া, থাকতে পারবোনা। রাত ১১:৩০ টায় ওর ঘরের সামনে গেলাম। দেখলাম দরজা টা হালকা ভাবে খোলা। আমি রুমে ঢুকে গেলাম ও তখন কপালের ওপর হাত চোখ বন্ধ করে আছে। আমি ভাবলাম ও ঘুমিয়ে রয়েছে। কিন্তু আমার পায়ের শব্দ শুনে ও চোখ খুলে আমার দিকে তাকালো। তবে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকলোনা। চোখটা বন্ধ করে ফেললো আবার। আমি আশফিকে তখন বললাম,
- আমাকে কি আর এক বার সুযোগ দেওয়া যায়না? ও তখন চোখ খুলে অবাক হয়ে তাকালো। আমি ভাবলাম ও এভাবে তাকালো ও কি ভাবলো আমি জাপান যাওয়ার জন্য সুযোগ চাইছি? তাই আমি বলেই ফেললাম,
- জাপান যাওয়ার জন্য নয়।
আশফিঃ তা কিসেন জন্য?
মাহিঃ তোমার সাথে রো...... না না মানে তোমাকে.......ভালোবাসার সুযোগ চাই
আশফিঃ Are you sure?
মাহিঃ Damn sure.
আশফিঃ পারবে তো আমার অত্যাচার সহ্য করতে?
মাহিঃ অত্যাচার?? অত্যাচারের কি হলো এখানে?
আশফিঃ না সবাই তো বলে আমি তোমাকে অনেক অত্যাচার করি।
মাহিঃ সবাই কে কে বললো এমন কথা?
আশফিঃ পাবলিকেরা। আমি নাকি তোমাকে খুব অত্যাচার করি। কেউ কেউ তো আমাকে ভিলেইন ই বানিয়ে দিয়েছে।
মাহিঃ আরে ধুর। ওদের কথা বাদ দাও তো। আর ওগুলো তো তোমার
#রোমান্টিক_অত্যাচার তাইনা।
( এখানেই শেষ নয়)
মাহিঃ আচ্ছা তুমি দরজা লক না করেই শুয়ে পড়েছিলে কেনো?
আশফিঃ তোমার জন্য।
মাহিঃ মানে? তুমি জানলে কি করে আমি আসবো?
আশফিঃ আমরা যখন কথা বলছিলাম তখন তুমি দরজার পাশে দাড়িয়ে ছিলে। আর তখন ই জানতাম তুমি আমার রুমে আসবে।
আশফিঃ আচ্ছা এখন যাও আমার জন্য খাবার নিয়েসো। খিদে পেয়েছে।
মাহিঃ ঠিক আছে। আমি ওকে বসিয়ে দিয়ে ওর জন্য খাবার এনে ওকে খাইয়ে দিতে গেলাম। ও তখন বললো,
আশফিঃ চামুচ দিয়ে খাবোনা। হাত দিয়ে খাইয়ে দাও।
মাহিঃ হুম। আচ্ছা। আমি ওকে হাত দিয়ে খাইয়ে দিচ্ছিলাম। খাওয়া শেষ করে উঠে যেতে গেলাম তখন ও আমার হাত ধরলো।
আশফিঃ খাওয়া শেষ হয়নি।
মাহিঃ খাবার তো শেষ। আচ্ছা তুমি বসো আমি খাবার নিয়াসছি।
আশফিঃ উহুম।
মাহিঃ খাবার শেষে আমার আঙ্গুল গুলোতে যে খাবার গুলো লেগেছিল ও প্রতিটা আঙ্গুল মুখের মধ্যে নিয়ে চেটে খেলো সেই খাবার গুলো।
আশফিঃ হয়েছে। এখন পানি দাও।
মাহিঃ তারপর আমি ওকে পানি খাইয়ে ওকে শুইয়ে দিয়ে চলে যেতে লাগলাম।
আশফিঃ কি হল? কোথায় যাও?
মাহিঃ অন্য রুমে।
আশফিঃ এই আমাকে ভালোবাসতে চাইছো আবার অন্য রুমে গিয়ে থাকতে চাইছো।
মাহিঃ না আসলে নার্স বলছিল তোমার সাথে থাকলে তোমার প্রবলেম হতে পারে।
আশফিঃ তুমি.......(থেমে গেলো) আচ্ছা ঠিক আছে যাও।
মাহিঃ কথাটা বলেই ও মুখ ঘুরিয়ে নিলো। বুঝতে পারলাম ও রেগে গেছে।
-আশফি?? আমি তো......
আশফিঃ মাহি চুপ করো। তোমার কি নিজে থেকে কখনো Sense হবেনা? সবকিছুই কি বলে বোঝাতে হবে?
মাহিঃ আমি কিছু না বলেই ওর পাশে গিয়ে শুয়ে পড়লাম। আর তখন ও আমার বুকের ওপর মাথা রাখলো। কিছুক্ষণ পর মাথা উঁচু করে আমার মুখের দিকে তাকালো।
আশফিঃ মাহি? তোমার Heartbeat বেড়ে যাচ্ছে কেনো? তুমি কি ভয় পাচ্ছো? তুমি কি এটা ভাবছো যে আমি তোমাকে এখন......... তাও আবার আমার এই অবস্থায়??
মাহিঃ কি বলছো তুমি এসব? আমি এগুলো ভাববো কেনো? আর আমি বুঝে গেছি তোমার ভালোবাসা, পাগলামী আর তোমার পাগলামী রোমান্স।
আশফিঃ সত্যি??
মাহিঃ হুম। সত্যি। কিছুক্ষণ আমার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকলো।তারপর আবার আমার বুকের ওপর মাথা রাখলো। ২ মিনিট পর আবার মাথা তুলে আমার চোখের দিকে তাকালো। তারপর আমার ঠোঁটের নিচে তিলটার দিকে তাকিয়ে তিলটাই চুমু দিল আর ঠোঁটে আলতো করে চুমু দিয়ে আবার আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমালো। এই পাগল টাকেই আমি কতো অবহেলা করেছি।

মাহিঃ আর একটু দেরি হলে এই পাগলটার ভালোবাসা, পাগলামী রোমান্স গুলো হারিয়ে ফেলতাম। তারপর আমিও ওকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে ওর ডাকেই আমার ঘুম ভাঙ্গলো।
আশফিঃ এই তুমি এখনও এতো ঘুমাচ্ছো কি করে। যাও উঠো। আমার সেবাযত্ন করা শুরু করো। নার্স দুটোকে বিদায় করে দিয়েছি।
মাহিঃ কি??
আশফিঃ কি মানে?
মাহিঃ না না কিছুনা। অনেক ভালো করেছো। আমি থাকতে অন্য কেউ কেনো তোমার সেবা করবে? তুমি বসো আমি এক্ষণি কফি নিয়াসছি।
আশফিঃ এতো তাড়াহুড়ো করতে হবেনা। আগে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিন,যান।
মাহিঃ হুম। ফ্রেশ হয়ে ওকে কফি দিয়ে রান্না করতে চলে গেলাম। দেখলাম মা রান্না করছে।
-মা তুমি আমাকে দাও আমি রান্না করছি।
মাঃ না তার কোনো প্রয়োজন নেই। রান্না অলরেডি শেষ। তুই ওর কাছে যা গিয়ে দেখ ওর কি লাগবে না লাগবে। ওকে গিয়ে দেখাশোনা কর।
মাহিঃ হুম যাচ্ছি। মাকে অনেক খুশি খুশি লাগছে।
এখন তো আমার সবসময় শুধু ওর কাছেই থাকতে ইচ্ছা করে। আগে যার থেকে শুধু পালিয়ে বেড়াতাম। এখন তার মুখটা দেখার জন্য মনটা খালি খালি উড়ু উড়ু করে। এভাবেই সবসময় ওর কাছাকাছি থাকি। এখন আমিই ওকে দেখাশোনা করি ওর খেয়াল রাখি। আগের থেকে অনেকটাই সুস্থ হয়ে গেছে ও কিন্তু মাঝে মাঝে শরীরে জ্বর আসে। আর ওর ঐ দুষ্টু মিষ্টি আদর নেওয়ার জন্য নানা রকম বাহানায় ওর কাছে যাই। একদিন সকালবেলা...........
আশফিঃ এই মেয়ে মানুষ গুলো এত পরিমাণ স্বার্থপর হয় এদের সাথে না থাকলে সেটা জানা সম্ভব হতোনা।
(নিউজপেপাড় পড়ছিল আর কথাগুলো বলছিল)
মাহিঃ তার মানে কি? তুমি কতগুলো মেয়ের সাথে থেকেছো। আর স্বার্থপরের কি দেখলে?
আশফিঃ না আমি একজন মেয়ের কথায় বলছি আর কি যে আমার সাথে থাকে।
মাহিঃ মানে কি আমি স্বার্থপর? স্বার্থপর হওয়ার মত কি করলাম আমি তোমার সাথে?
আশফিঃ স্বার্থপর ই তো। সবসময় শুধু এক এক রকম বাহানায় আমার কাছে আসো আমার আদর নেওয়ার জন্য। নিজে তো কখনও করোনা।
মাহিঃ যাহ্ ও বুঝতে পেরে গেলো!
-এই শোনো আমি যদি দুষ্টুমি শুরু করিনা তাহলে তুমি একদম অতিষ্ট হয়ে যাবে।
আশফিঃ তার জন্য আমি সর্বদাই প্রস্তুত।
মাহিঃ ঠিক বলছো তো? তাহলে ঠিক আছে, এখন থেকে আমি তাই তাই করবো যা যা তুমি আমার সাথে করতে বরং তার থেকে আরও বেশি কিছু করবো। মানে এখন থেকে তুমি অত্যাচারীত হবে।
আশফিঃ আহ্। (বুকের বাম পাশে হাত রেখে) এত বড় একটা কথা আমার heart টা নিতে পারেনি। খুব জোড়ে ধাক্কা খেলো।
মাহিঃ ইয়ারকি হচ্ছে। আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছেনা তাইনা?
আশফিঃ মাথা নাড়িয়ে না বোধক উত্তর বোঝালো।
মাহিঃ ঠিক আছে বিশ্বাস করাচ্ছি। ওর গাল দুটো ধরে ওর ঠোঁটে কিস করে বসলাম। ও যতুটুকু সময় নিত তার থেকে বেশি সময় আমি নিলাম।
আশফিঃ ও এভাবে আমাকে চুমু দিয়ে বসবে সেটা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। আমার চোখ দুটো পুরো রসোগোল্লার মত হয়ে গেলো। ও যেভাবে কিস করছে তাতে আমার নাক টাও আটকে গেছে। এদিকে আমার শ্বাষ বন্ধ হয়ে আসছে তাও ওর ছাড়ার কোনো খবর নেই।
মাহিঃ অনেক্ষন ওকে কিস করে তারপর ছাড়লাম।
- কি? হয়েছে বিশ্বাস। ও পুরো হাপিয়ে শুথু মাথা ঝাকালো। তোমার রেকর্ড আমি ভেঙ্গে দিয়েছি।
আশফিঃ হুম। কতক্ষন করেছো?
মাহিঃ উমমমম ৭/৮ মিনিট তো হবেই।
আশফিঃ হা । my god!!
মাহিঃ হুম। এখন থেকে এগুলোর জন্য always ready থাকবে। গট ইট? তারপর রুম থেকে বেরিয়ে এলাম
আশফিঃ Thank god. তাহলে পেরেছি আমি এই নিরামিষ টাকে আমিষে পরিণত করতে।
মাহিঃ আজকে বিকালে ও বাগানে দাড়িয়ে গার্ডদের কি যেনো বোঝাচ্ছিল। আমি ওর পাশে গিয়ে দাড়ালাম। ওর দিকে এক নজরে তাকিয়ে আছি। কথা বলার মাঝে ও আমার দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচিয়ে জানতে চাইলো কি বলতে এসেছি আমি। আমি ওর দিকে তাকিয়ে ঠোঁটটা কিস এর স্টাইল করে কিস দেখালাম। এটা দেখে ও তো লজ্জা পেয়েছেই সামনের গার্ডগুলো ও লজ্জা পেয়ে মুখ চিপে হাসছিল। তারপর ও চোখ ফিরিয়ে নিয়ে ওদের সাথে কথা বলা শুরু করলো। কিন্তু কথা বলতে পারছিলনা কথা বলার মাঝে বারবার আমার দিকে তাকাচ্ছিল আর কথা থেমে যাচ্ছিল। এটার কারণ হলো আমি তখন ওর দিকে এক নজরে তাকিয়েই আছি।at last কথা বলতে না পেরে গার্ডগুলোকে চলে যেতে বললো পরে কথা বলবে বলে।
আশফিঃ মাহি তুমি কি করছিলে ওদের সামনে?
মাহিঃ কৈ কি করছিলাম আমি তো তোমার সাথে romance করবো বলে আসলাম। তাই বলে এখানে ওদের সামনে?
মাহি তুমি ঠিক আছো তো? ওর কপালে হাত দিয়ে বললাম
মাহিঃ ধ্যাত।
আশফিঃ ও রেগে চলে গেলো।
মাহিঃ কিছুটা দূরে গিয়ে পেছনে তাকালাম,দেখলাম দাড়িয়ে দাড়িয়ে হাসছে। দেখে আরো রাগ হয়ে গেলো তাই তাই হনহন করে হেঁটে বাসার ভেতর চলে আসলাম। রাতে সবাই একসাথে ডিনার করে মায়ের সাথে কিছুক্ষণ গল্প করে রুমে এলাম। ও তখন শুয়ে পড়েছে। ও যেদিকে মুখ ঘুরে শুয়ে আছে সেদিকে গিয়ে শুয়ে পড়লাম। তারপর ওর হাতটা টেনে আমার পেটের ওপর রাখলাম। ও তখন চোখ খুলে অবাক হয়ে মাথা উঁচু করে তাকালো। আমি পেছন ফেরা অবস্থাই বললাম। এতো অবাক হওয়ার কিছু নেই। তারপর ও আবার মাথা বালিশে রেখে শুয়ে পড়লো। কিন্তু এটা কি হলো? ওর ভেতর একটুও রোমান্স কাজ করলোনা?
ব্যাপারটা কেমন কেমন যেনো হয়ে যাচ্ছে। ok. দেখছি কতক্ষন নিজেকে কনট্রোল করতে পারো। আমি বেশি ভালোবাসছি বলে তুমি আনরোমান্টিক হয়ে যাবে এটা তো হতে দেওয়া যায়না। রাত ২:০০ টা বাজে,
-আশফি? এই আশফি? একটু উঠে দেখোনা পিঠের মাঝে কিছু একটা বাঁধছে মনে হচ্ছে। ঘুমাতে পারছিনা। কি হলো?? দেখোনা।
আশফিঃ হুমম (ঘুম চোখে। কি হলো এতো রাতে তোমার? কি হয়েছে পিঠে।ওভাবে পিঠ চুলকাচ্ছো কেনো?
মাহিঃ চুলকাতে পারছি কৈ? পিঠের মাঝে কিছু একটা বাঁধছে একটু দেখো।
আশফিঃ হুম। দেখছি। কিন্তু কিভাবে দেখবো নাইটির ওপরে। তাহলে তো নাইটি টা খুলতে হবে।
মাহিঃ খুলতে হবে তো খোলো।
আশফিঃ কি ব্যাপার? ও এতো ইজিলি নিলো নাইটি খোলার বিষয় টা?? একটু বেশিই অদ্ভুত লাগছে ব্যাপারটা। তার মানে ও কি ইচ্ছে করে করছে শুধু আমাকে exited করার জন্য?? হ্যা, তাই হবে।
মাহিঃ কি হলো? কি ভাবছো বসে। খুলে দেখো কি ঢুকলো?
আশফিঃ হুম দেখছি। তারপর আমি একদম সোজা ওর নাইটির পেছন দিয়ে হাত ঢুকিয়ে দিলাম ওর পিঠের মাঝে।
মাহিঃ এটা কি করলো ও? নাইটি না খুলে পেছন দিক দিয়ে হাত ঢুকিয়ে দিল?
আশফিঃ তারপর একটা চেইন বের করে ওর সামনে ধরলাম।
- গলা থেকে চেইন টা ছিড়ে পিঠের মাঝে ঢুকেছিল। তাই বাঁধছিল।
ও আমার ওপর রাগে কটমট করছে। তারপর চেইন টা আমার হাত থেকে থাবা দিয়ে নিয়ে ঠাস করে শুয়ে পড়লো। আমার তখন প্রচুর হাসি পাচ্ছিল।হাহাহা এখন দেখো কেমন লাগে?(মনে মনে)
তারপর আমিও শুয়ে পড়লাম। সকালে ঘুম ভেঙ্গে চোখ খুলতেই যা দেখলাম। আর একটু হলেই মাহি বলে চিৎকার দিতে যাচ্ছিলাম। তাড়াতাড়ি আমি ওর গায়ে কম্বলটা দিয়ে দিলাম। না হলে যে কেউ ঘরে ঢুকে ওর এই অবস্থা দেখে ফেলতো। কারণ কাল রাতে ও দরজা লক করে ঘুমাইনি।তারপর আমি উঠে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় বসে ফোনে গেম খেলছিলাম।
মাহিঃ এই? একটু দেখোনা আমার নাইটি টা কোথায়? একটু খুঁজে দাও। (চোখ বন্ধ করেই)
আশফিঃ আমি ওর ডাক শুনে ওর কাছে গিয়ে বললাম,
-এই তুমি কাল রাতে এভাবে নাইটি খুলে ঘুমিয়েছো কেনো? (অবশ্য নিচে একটা ছোটো আস্তর পরা ছিল) যদি কেউ রুমে ঢুকে দেখে ফেলতো?
মাহিঃ আরে কাল রাতে এসিটা অফ ছিল আর অন করিনি তোমার শরীরে জ্বর ছিল বলে। এদিকে গরমে পুরো অস্থির হয়ে পড়ছিলাম। তাই খুলে ঘুমিয়েছিলাম।
আশফিঃ গরমে? নাকি আমাকে exited করার জন্য? কথাটা শুনে ও এবার পুরো তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো।
মাহিঃ যে জন্যই করি তাতে তোমার কি? তুমি কি exited হয়েছো? হউনি তো? তাহলে এতো কথা বলছো কেনো? যাও আমার নাইটি টা খুঁজে দাও।
আশফিঃ আমি বিছানায় চারপাশ খুঁজলাম পেলামনা। তারপর ওর গা থেকে কম্বল টা ফেলে দিলাম। কম্বলের নিচে পরে ছিল। ওকে ধরিয়ে দিলাম। ও সেটা পরে আমার দিকে চোখ গরম করে তাকিয়ে উঠে চলে গেলো। এবারও নিজের হাসিটাকে কন্ট্রোল করলাম।
মাহিঃ রুমে এসে দেখলাম ও নিচে থেকে কিছু একটা তুলতে যাচ্ছে কিন্তু ওর অনেক কষ্ট হচ্ছে তাই তাড়াতাড়ি গিয়ে তুলে দিলাম।রেজার ছিল।
- তুমি কি shave করবে? দাও আমি করে দিচ্ছি।
আশফিঃ কাউকে কোনোদিন করে দিয়েছো?
মাহিঃ না। আজকেই 1st time করবো।
আশফিঃ তাহলে আর দরকার নেই। 1st time যেহেতু তাই করতে পারবেনা।
মাহিঃ 1st time তো কি হয়েছে? ট্রাই তো করেই দেখতে পারি।
আশফিঃ থাক। কোনো দরকার নেই। না হলে আমার ফেস এর ১২টা বেজে যাবে। তুমি দেখো আজকে কিভাবে করতে হয় তারপর পরে ট্রাই করো। আর আমাকে অফিস যেতে হবে। তাই দ্রুত করতে হবে।
মাহিঃ অফিস??? হ্যা অফিস তো যেতে হবে। ঠিক আছে আমিও যাবো।
আশফিঃ তুমি গিয়ে আর কি করবে। যেতে হবে না।
মাহিঃ না। আমি যাবো। তবে তোমার পি.এ. হয়ে না। তোমার এম.ডি. হয়ে যাবো। আর তুমি আমার পি.এ. হবে।
আশফিঃ আর ইউ ক্রেজি?
মাহিঃ I'm not crazy. যেটা বলছি সেটাই করবে।
আশফিঃ ok...
মাহিঃ তারপর আমরা রেডি হয়ে অফিসে চলে এলাম। সবাই আমাদের মর্নিং জানালো। কেউ কেউ তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিল। আমি সরাসরি ওর চেম্বারে গেলাম আশফি ও ঢুকলো।
আশফিঃ কি ম্যাডাম আপনি কি আমার চেয়ারেই বসবেন?
মাহিঃ Of course dear.
আশফিঃ ঠিক আছে বসো। আর ওখানে কিছু প্রজেক্টের ফাইল আছে ওগুলো আমাকে দাও।
মাহিঃ কেনো? ওগুলো আমি দেখবো। এখন যেহেতু আমি এম.ডি. তাই সেগুলো দেখার দায়িত্ব ও আমার। তুমি যাও আমার চেম্বারে গিয়ে আমার কাজ গুলো দেখো।
আশফিঃ আরে...........আচ্ছা ঠিক আছে। যদি আমার ল্যাপটপ টা দিতেন তাহলে একটু ভালো হতো।
মাহিঃ ওকে। নাও। তারপর ও ল্যাপটপ টা নিয়ে আমার চেম্বারে চলে গেলো। বসে কাজ করা শুরু করে দিয়েছে। আমি ওর দিকে তাকিয়ে আছি। ওর চোখ যখন আমার দিকে পরলো তখন আমি ওকে চোখ মেরে দিলাম। ও একটা মুচকি হাসি দিয়ে কাজ শুরু করলো। এর মধ্যে ম্যানেজার সাহেব চেম্বারে আসলো। আমাকে স্যার ভেবে কিছু বলতে গিয়ে থেমে গেলো আমাকে দেখে। (অবাক হয়ে)
- মাহি তুমি? না মানে ম্যাম স্যার কোথায়?
মাহিঃ আপনি মাহি বলেই ডাকবেন সমস্যা নেই। এখন বলুন কি প্রয়োজন।
- আসলে নতুন যে প্রজেক্ট এর কাজ শুরু হয়েছে সেগুলো নিয়ে কিছু কথা বলার ছিল।
মাহিঃ আমাকে দেখান।
- এই যে এগুলো।
মাহিঃ ও মাই গড এই প্রজেক্টের বিষয়ে তো আমি কিছুই জানিনা। আমি তখন ছিলাম না। ওকে এখানে আসতে বলি। ফোন করে ওকে আসতে বললাম। ও চেম্বারে আসলো। ওরা দুজন সামনের চেয়ারে বসে কথা বলছিল। আর আমি শুধু ওকেই দেখছি। কথা বলা শেষ করে ম্যানেজার চলে গেলো। আশফি ও বেরিয়ে যাচ্ছিল।
মাহিঃ এই কোথায় যাও। আমি তোমাকে যেতে বলেছি?
আশফিঃ ow...sorry mam. বলুন কি প্রয়োজন?
মাহিঃ হুম। আমার কাছে এসো।তারপর ও কাছে এসে দাড়ালো।
-এই হট কফিটা খাও। এটা তোমাকে ভেবে দিয়ে গেছে।
আশফিঃ ওকে। তারপর কফিটা খেলাম।
মাহিঃ এখন তোমার হট লিপে আমাকে একটা হট কিস করো। ও নিচু হয়ে আমাকে কিস করার জন্য এগিয়ে এলো।
-উহুম এভাবে নয়। ওয়েট।
আমি চেয়ার থেকে উঠে টেবিলের ওপর পা নামিয়ে দিয়ে বসলাম। তারপর ওর স্যুট টেনে ধরে ওকে কাছে নিয়েলাম। হুম এখন করো।
আশফিঃ ওর এসব দেখে আমি সত্যিই exited হয়ে যাচ্ছিলাম।ওর কাছে গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরে কিস করছিলাম।এমন সময় মনে হলো দরজায় নক পরলো। তাড়াতাড়ি ওকে ছেড়ে দিয়ে ওকে নিচে নামালাম। কিন্তু দুজনেই অনেকটা অপ্রস্তুত অবস্থায় দাড়িয়ে ছিলাম। আমি ভেতরে আসতে বললাম তাকে। নীলা এসেছে। কিন্তু নীলা ওর দিকে এভাবে তাকিয়ে আছে কেনো?
আমি ওর মুখের দিকে তাকালাম। দেখলাম ওর ঠোঁটের চারপাশে ভিজে হয়ে আছে। আমি যে ওকে কিস করেছি সেটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। আর সে জন্যই নীলা ওভাবে ওর দিকে তাকিয়ে আছে।
মাহিঃ আরে নীলা কেমন আছো? এসো বসো।
নীলাঃ হ্যা ভালো। তুমি কেমন আছো? স্যার আপনি কেমন আছেন?
আশফিঃ হুম। খুবই ভালো। ও গড এই মেয়েটা কি বুঝতে পারছেনা ওর ঠোঁটটা ভিজে হয়ে আছে। ঠোঁটটা না মুছেই ওর সাথে বকবক করছে। কিভাবে বলি? আমি ওর একটু কাছে গিয়ে নীলার দিকে তাকিয়ে ওকে আস্তে করে বললাম,
-মাহি ঠোঁটটা মুছো।
মাহিঃ কি মুছবো?(জোড়ে বলে উঠলো)
আশফিঃ তারপর ওর দিকে চোখ গরম করে তাকিয়ে ইশারায় বোঝালাম। ও তাড়াতাড়ি করে ঠোঁট মুছলো। মেয়েটা আসলেই একটা গাধা।
নীলাঃ স্যার এই ফাইল গুলো আপনাকে দেওয়ার ছিল।
আশফিঃ হুম রেখে যাও। নীলা চলে গেলো। তারপর ওর সাথে কথা শুরু করলাম।
-তুমি কি একটুও বুঝতে পারছিলেনা? ও কি ভাবলো বলো তো?
মাহিঃ ভাবুক। হাজবেন্ড ওয়াইফ হতেই পারে। এ্যাহ নিজে যেনো কতো ভাবতো। কি হয়েছে? ওভাবে তাকিয়ে কি দেখছো?
আশফিঃ দেখছি আমার নতুন মাহি কে।
মাহিঃ হুম দেখো ভালো করে দেখো। সামনে আরও অনেক কিছু দেখতে পাবে।
আশফিঃ হুম??? তাই?
মাহিঃ হুম তাই।
আশফিঃ ওর সাথে দুষ্টুমি ফাজলামি করেই সময় কাটছিল। কখনও আমার কোলে বসে নিজেই কিস করছে আদর করে দিচ্ছে, আবার কখনো বিভিন্নরকম কথা বার্তা বলে হাসি ঠাট্টা করছে। আর আমি শুধু আমার মাহিকেই দেখছিলাম। এখন ওর হাসিটাই যেনো আমাকে সব কষ্ট ভুলিয়ে দিয়ে নতুন করে বাঁচিয়ে তুলছে। এই হাসিটা না থাকলে আশফির জীবন টা থেমে যাবে।
-মাহি lunch এর টাইম হয়ে গেছে চলো বাইরে থেকে lunch করে আসি। আজকে তো আর lunch নিয়ে আসিনি।
মাহিঃ হ্যা ঠিক আছে চলো। আমরা lunch করার জন্য একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকলাম। lunch শেষে আমাকে নিয়ে কিছুক্ষণ ও গাড়িতে ঘুরলো।
আশফিঃ মাহি চলো অনেক সময় হয়ে গেছে অফিসের কাজ শেষ করে বাসায় ফিরতে হবে।
মাহিঃ ওকে। চলো। তারপর অফিসে গিয়ে সব কাজ শেষ করে বাসায় ফিরলাম।
★সন্ধ্যার পর★
আশফিঃ আচ্ছা মামনি তুমি দেখতে এতো সুন্দর কিন্তু তোমার মেয়েটা এমন দেখতে হয়েছে কেনো?
মামনিঃ কেমন দেখতে? ও তো দেখতে আমার থেকেও সুন্দর হয়েছে একদম ওর বাবার মত। ওর বাবা তো দেখতে অনেক সুন্দর ছিল।
মাহিঃ মা!!! তুমি আবার ঐ লোকটার কথা বলছো? আর আমি কোনোদিও ওনার মত দেখতে না। ওনার মত নিকৃষ্ট ব্যক্তির সাথে আমার কোনো মিল থাকতে পারেনা।
আশফিঃ মাহি!! তুমি কার সম্পর্কে কি বলছো? উনি তোমার বাবা হন। আর তুমি এমন ধরনের ব্যবহার কবে থেকে শিখলে?
মাহিঃ আশফি তুমি জানো না ঐ লোক টার জন্য আজও আমার মা চোখের পানি ফেলছে। পুরো জীবন টা শেষ করে দিয়েছে মায়ের।
আশফিঃ চুপ করো তুমি। তুমি কতটুকু জানো তার সম্পর্কে? আমি যা জানি তুমি তার ১ ভাগ ও জানোনা।
চলবে............
(আমার কিছু কিছু পাঠকেরা আমার গল্পের থেকে গল্পে দেওয়া actor actress নিয়ে বেশি exited. আমি তাদের question এ পাগল হয়ে যাচ্ছি। এটা কোন মুভি, কোন ড্রামা, নাম কি তাদের আর ও অনেক কিছু। তাই তাদের জন্য বলছি এটা কোনো মুভি না এটা কোরিয়ান ড্রামা নাম The fox's summer/the summer fox. আর হিরো টার নাম Jiang chao.আর আমার গল্প টা এই নাটকের কপি না) পারলে দেখে নিবেন

MD. Rasel Rana

MD. Rasel Rana

Blogger দ্বারা পরিচালিত.