Breaking News
recent

ভালবাসার গল্প আলো ছায়ার ভালোবাসা – পর্ব ২

Related image
সোনিয়ার মোবাইল নম্বরে তখন অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন আসে। সোনিয়া ফোনটি রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে ওর অতি পরিচিত একটি কণ্ঠস্বর বলে ওঠে, “যদি ভুল না হয় তাহলে আমি সোনিয়ার সাথেই কথা বলছি” অনেকদিন এই কণ্ঠস্বরের সাথে কথা বলা না হলেও সোনিয়া কণ্ঠস্বরটি শুনেই চিনতে পারে এটি তার প্রেমিক অপূর্বের কণ্ঠস্বর। সে কিছুক্ষণের জন্য হতভম্ব হয়ে যায়। কি বলবে তা সে বুঝতে পারেনা। তারপর নিজেকে কিছুটা ধাতস্থ করে উত্তর দেয় “হ্যাঁ, আমি সোনিয়া বলছি। কিন্তু আপনি কে?” সোনিয়া এমনভাবে কথাটুকু বলে যেন সে অপূর্বকে চিনতে পারেনি।
“আমি জানি তুমি আমাকে চিনতে পেরেছ, তবুও যেহেতু না চেনার ভান করছ তাই আমার পরিচয় দিচ্ছি। আমি অপূর্ব। এখন নিশ্চয় প্রশ্ন করবেনা কোন অপূর্ব?” অপূর্ব নিজের পরিচয় দেয় সোনিয়া তবুও ভাব করে সে অপূর্ব নামের কাউকে চিনেনা। সে প্রশ্ন করে “কোন অপূর্ব?”
অপূর্ব তবুও ধৈর্যের পরিচয় দেয়, সে উত্তর দেয় “তোমার অপূর্ব”
“আমার কোন অপূর্ব নেই, যে অপূর্ব ছিল সেতো আমাকে বিয়ে করার ভয়ে বিদেশ গিয়ে পালিয়েছে”
“হুম আমি সেই অপূর্বই বলছি, আমি পালিয়ে যাইনি বরঞ্চ আমাকে বিদেশ যেতে বাধ্য করা হয়েছে”
“ও আচ্ছা, তো কবে ফিরেছেন?” সোনিয়া নির্বিকার-ভাবে জানতে চায়।
“গত সপ্তাহেই ফিরেছি, আর তুমি আমাকে আপনি আপনি করছ কেন?”
“ও আপনি হয়ত ভুলে যাচ্ছেন আমি এখন অন্যের ঘরণী”
“না সোনিয়া, আমি দেশে এসে সবই শুনেছি এবং অনেক কষ্টে তোমার নম্বর যোগাড় করেছি”
“আহারে বেচারা! এখন আমার কি করতে হবে”
“তুমি একটু স্বাভাবিকভাবে কথা বলো প্লিজ, আমি তোমার সাথে দেখা করতে চাই”
“শুনুন, আপনার সাথে কথা বলার মতো সময় আমার নেই। আমার এখন স্বামী, সন্তান, সংসার আছে। দয়া করে আপনি আর ফোন দিবেননা”। সোনিয়া লাইনটি কেটে দেয়। কিন্তু তার দুচোখ বেয়ে জলের ধারা নামে। নিজের চোখকে সে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনা। সে মুখে অপূর্বকে ফোন দিতে নিষেধ করেছে ঠিক কিন্তু সে মনে মনে চাইছে অপূর্ব তাকে আমার ফোন দিক। কিন্তু ওপাশ থেকে আর অপূর্বের ফোন আসেনা।
সোনিয়া চোখ মুছে অহনাকে স্কুল থেকে আনতে বেড়িয়ে যায়।
।চার।
সোনিয়ার সাথে অপূর্বের পরিচয় হয় ভার্সিটিকে পড়াকালীন সময়ে। অপূর্ব ও সোনিয়া পড়ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এ। সোনিয়া যখন প্রথম বর্ষে ভর্তি হয় তখন অপূর্ব পড়ে ফাইনাল এয়ারে। অপূর্বর ছোট বোনও পড়ত সোনিয়ার সাথে। সেই সূত্রেই সোনিয়ার সাথে অপূর্বের পরিচয় ও পরিচয় থেকে পরিণয়।
মেয়েকে বেশিদূর লেখাপড়া করানোর কোন ইচ্ছাই মোতালেব সাহেবের ছিলনা। তাই তিনি গোপনে গোপনে পাত্র খুঁজতে থাকেন। আশিকের সাথে উনার পরিচয় হলে তার সাথে তিনি সোনিয়ার বিয়ে ঠিক করে তা সোনিয়াকে জানান। সোনিয়া বিয়েতে মত না দিয়ে তার বাবাকে অপেক্ষা করতে বলে। সোনিয়া অপূর্বকে বিয়ের কথা বলতে অপূর্ব এই সময়ে বিয়ে করতে প্রস্তুত নয় বলে জানায়। সোনিয়া তখন কেবল মাত্র দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী আর অপূর্ব ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে চেষ্টা করছিল স্কলারশিপের। অপূর্ব সোনিয়াকে অপেক্ষা করতে বলে। কিন্তু সোনিয়ার বাবা অপেক্ষা করতে নারাজ। তিনি আশিকের সাথেই তার মেয়েকে বিয়ে দিবেন। কিছুদিন পর অপূর্ব স্কলারশিপ পেয়ে বিদেশ চলে যায় এবং সোনিয়াও বাবার সম্মতিতে আশিকের সাথে বিয়ের পিড়িতে বসে।
সাত বছর দেশের বাহিরে কাটিয়ে অজস্র টাকা পয়সার মালিক হয়ে অপূর্ব দেশে ফিরে আসে। দেশে ফিরে এসেই সে তার সোনিয়ার খোঁজ করে কিন্তু তার সোনিয়া এখন আর তার নেই এটি সে ভুলে যায়। সে তার বোনের মাধ্যমে সোনিয়ার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে ফোন দেয় ফোন দিয়ে কথা বলে সোনিয়ার অদ্ভুত আচরণে সে অবাক হয় এবং কষ্ট পায়। কিন্তু সে সোনিয়াকে ভুলতে পারেনা। সোনিয়াকে পাবার আশায় সে আজও অবিবাহিতই থেকে গেছে। সে সিদ্ধান্ত নেয় একদিন সে সোনিয়ার সামনে গিয়ে দাঁড়াবে। নিশ্চয় সেদিন সোনিয়া আর অভিমান করে থাকতে পারবে না।
।পাঁচ।
অহনাকে স্কুলে দিয়ে এসে অফিসে পৌছতে পৌছতে আশিকের কিছুটা দেরী হয়ে যায়। সে নিজের ডেস্কে বসে কম্পিউটারে মেইল চেক করতে থাকে। অফিস পিয়ন রাজু তার টেবিলে চা দিয়ে যায়। চায়ে চুমুক দিতে দিতে একটি ই-মেলের দিকে তার দৃষ্টি আটকে যায়। বিশ্ব বিখ্যাত একটি বায়ার তাদের কারখানার জন্য প্রায় ছয় লাখ কাজের অর্ডার দিয়েছে। উক্ত বায়ার মাস কয়েক আগেই তাদের কারখানা পরিদর্শন করে পাশ মার্ক দিয়ে যায়। আশিক ইমেইলটি পড়েই উত্তেজিত হয়ে চায়ের কাপটি ফেলে রেখে বসের চেম্বারের দিকে যায়।
আশিক বসকে উত্তেজিত-ভাবে ইমেইলের কথা জানাতেই বস বলে “হুম আমি মেইলটি দেখেছি” তারপর আশিকের দিকে উনার হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলেন “কংগ্রাচুলেশনস”
আশিক প্রশংসা পাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলনা।
তবুও বসের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়ে খুশী হলো। বসের চেম্বার থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার সময় বস বললেন “দেখুন এই বায়ারের সবকিছু সতর্কতার সাথে করতে হবে। আমরা কোনভাবেই এই বায়ারকে হারাতে চাইনা। ডেলিভারি যেন অনটাইমে দেওয়া যায় সেদিকে নজর রাখুন। ফেব্রিক ও এক্সেসরিজ বুকিং দিয়ে দিন”।

“আচ্ছা স্যার, আমি দেখছি। আপনি কোন চিন্তা করবেন না” আশিক তার বসকে আশ্বস্ত করে চেম্বার থেকে বেড়িয়ে যায়।
আশিক কম্পিউটারে কাজ করছিলো। পিয়ন রাজু এসে জানিয়ে গেল একজন লোক তার সাথে সাক্ষাত করতে এসেছে। গেষ্টরুমে তাকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এমন সময় কে আসতে পারে তা ভাবতে ভাবতে আশিক গেষ্টরুমে আসে।
গেস্ট-রুমে মোটা করে একজন ভদ্রলোক বসা ছিল। আশিক প্রবেশ করতেই লোকটি দাড়িয়ে আশিককে সালাম দেয়।
লোকটি তার পূর্ব পরিচিত আগেও অনেকবার এখানে এসেছে। সে এক্সেসরিজ সাপ্লায়িং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। সে অনেকবারই আশিককে কমিশনের অফার দিয়েছে যেন তার কোম্পানিকে আশিক কাজ দেয়, কিন্তু আশিক কোন সময়ই রাজি হয়নি। উপরি কামাইয়ের ধান্ধা সে কখনো করেনি। আশিক নিশ্চিত এবারো সে একই প্রস্তাব নিয়ে এসেছে।
আশিকের ধারনাই ঠিক, আশিক এবারো তাকে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু লোকটি যাবার সময় আশিককে তার একটি কার্ড ধরিয়ে দিয়ে যায়।
লোকটিকে বিদায় করে কাজে মনোযোগ দিতেই সে সোনিয়ার ফোন কল পায়। আশিক ফোনটি ধরতেই শোনতে পায় সোনিয়ার উত্তেজিত কণ্ঠস্বর,
“তুমি কোথায়?”
“আমি অফিসে, তোমার কণ্ঠ এমন শোনাচ্ছে কেন?” আশিক আতঙ্কিত কণ্ঠে জানতে চায়।

পরবর্তীর পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।
MD. Rasel Rana

MD. Rasel Rana

Blogger দ্বারা পরিচালিত.